৬ অক্টোবর ঢাকা অ্যাটাক!

643xNx22c82388e78bcc4b67b4da78ac85d00b-Dhaka-Attack.jpg.pagespeed.ic.9yhhPh3Xg4

‘লাশের পকেটে হাসি’ এই পাঞ্চলাইন দিয়ে দু’টি টিজারেই দর্শকদের মাতানো যে ব্যাপারটা, ঢাকা অ্যাটাক তাতে পুরোপুরি সফল। ২০১৫ সালে পরিচালক দীপংকর দীপন বেশ ঘটা করেই ঘোষণা দিয়ে এই চলচ্চিত্রের কাজ শুরু করেন। শ্যুটিং শুরুর পর থেকেই ছোট ছোট বিভিন্ন ক্লিপ অনলাইনে দিয়ে দর্শকদের মুখে মুখে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ নামটি ছড়িয়ে দিতে থাকেন। কপ থ্রিলার জনারার এই চলচ্চিত্রটি দ্রুত বাংলাদেশের চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষদের আকর্ষণের অন্যতম কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। অবশেষে আগামী ৬ আগস্ট সারা দেশে মোট মোট ১২২ টি সিনেমা হলে সগৌরবে মুক্তি পাচ্ছে ঢাকা এ্যাটাক। শুধু তা-ই নয়, মুক্তির দুই সপ্তাহ পর যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা কাতার সহ মোট ২৫ টি বিদেশী প্রেক্ষাগৃহেও মুক্তি পাবে ‘ঢাকা অ্যাটাক’।

পুলিশ নিয়ে বাংলাদেশের মানুষ বরাবরই নেতিবাচক একটা মনোভাব পোষণ করে। কারণ যা-ই হোক সেটা হয়েছে ও হচ্ছে। আর বাংলাদেশের সিনেমায় পুলিশ বরাবরই শেষ দৃশ্যে আসে। আর কখনো কখনো যদিওবা মূল চরিত্রে আসে, পুলিশের সত্যিকারের ক্ষিপ্রতা, বডি ল্যাংগুয়েজ, বিভিন্ন মিশন এমনকি রিভালবারটা ধরাটাও পারফেক্ট হয় না। বলতে গেলে এক প্রকার নখদন্তহীন করেই বাংলাদেশের পুলিশকে উপস্থাপন করা হয়। অথচ বাংলাদেশের ডিফেন্স বরাবরই দেশের সংকটময় সব পরিস্থিতি মোকাবেলা করে করছে ও করে আসছে। আর তাই বাংলাদেশের ডিফেন্স ব্যবস্থাকে মানুষের কাছে তুলে ধরতে ‘ঢাকা অ্যাটাক’ চলচ্চিত্রের সার্বিক সহযোগিতায় সরাসরি আছে বাংলাদেশ পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। সুতরাং বলা যায় এবার হয়তো বাংলাদেশের পুলিশের আসল চেহারা মানুষ দেখতে পাবে ‘ঢাকা অ্যাটাক’এ। সিনেমার ট্রেলারে কাহিনী তেমন একটা খোলাশা করেন নি পরিচালক দীপংকর দীপন। টিজার দেখে আপাতদৃষ্টিতে মনে হয়েছিল সিরিয়াল কিলার কেস নিয়ে এগুবে কাহিনী। কিন্তু ট্রেলার দেখে বোঝা গেল শুধু সিরিয়াল কিলার নিয়ে নয়, বড় কোন অ্যাটাক মোকাবেলা করতে প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশের পুলিশ ডিপার্টমেন্ট। দুর্দান্ত সব একশন দৃশ্যের সাথে ব্যকগ্রাউন্ডে থ্রিলিং স্কোর, প্রত্যাশা তাই বড় কিছুরই।

dhaka_attack-1

‘ঢাকা অ্যাটাক’ সিনেমার কাহিনী রচনা করেছেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের এডিসি সানি সানোয়ার ও পরিচালনা করেছেন দীপংকর দীপন। আরেফিন শুভ, মাহিয়া মাহী, এ বি এম সুমন, আফজাল হোসেন, শতাব্দী ওয়াদুদ, নওশাবা আহমেদ এদের মতো অভিজ্ঞ ও নবীন অভিনেতা অভিনেত্রীদের সম্মেলন ঘটেছে এখানে। পাশাপাশি সংগীতায়োজনে আছেন অদিত ও অরিন্দম চ্যাটার্জি।

সচরাচর বলিউড কিংবা হলিউডে দেখা ক্যাজুয়াল পোশাক, কালো সানগ্লাস, কোমরে গান হোলস্টার বাঁধা সিক্রেট ইন্টালিজেন্স অফিসার কিংবা হেলিকপ্টার থেকে রাইফেল হাতে নেমে আসা কমান্ডো বাহিনীকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে দেখার দীর্ঘদিনের আশা এবার খুব সম্ভবত পূরণের পথে। বাকিটা ৬ তারিখ সিনেমা হলেই জানা যাবে।

লেখক: আশরাফ আবির, ছবি: ইন্টারনেট