হঠাৎ স্বপ্ন

সায়মুন পারভেজ

“রাত আসে রাত চলে যায় দূরে

সেই স্মৃতি ভুলতে কি আজ পারি

পুরনো দিন আছে মন জুড়ে

ভালোবাসা হয়েছে ভিখারি

ধুপকাঠি মন জ্বলে একা একা তাই

সেই তুমি নেই তুমি নেই সাথে”

এক

এটা একটা ছেড়া ডায়েরির পাতায় লেখা ছিলো। কোত্থেকে যেন উড়ে এসে আমার পায়ের কাছে পড়ল। আমি দাঁড়িয়ে ছিলাম রিক্সার জন্য। রিক্সা নিয়ে হয়েছে এক জ্বালা। যখন লাগবে না, তখন গা ঘেঁষে ঘেঁষে আসে আর হাক ছাড়ে ‘মামা কই যাইবেন?’ আর যখন লাগে তখন বাজেট বাড়ানোর নিয়ত করেও পাওয়া যায় না,

“আমার ডায়েরির পাতা, ছিঁড়ে গেছে আর বাতাসটাও এত যে, সব পাতাগুলো উড়ে এদিক সেদিক হয়ে গেছে। এটাই শেষ পাতা” খুব বিনয়ী স্বরে একটানে বলে গেল কালো ড্রেস পরা মেয়েটি, আমাকে কিছু বলার সুযোগ না দিয়েই মেয়েটি বলতে লাগল,

– এটা একটা গানের শেষ অন্তরা, কিশোর কুমার এর গাওয়া, “সেই রাতে রাত ছিলো পূর্ণিমা” গানটা অসম্ভব সুন্দর।

– ওহ!  তাই?

– আপনি শুনেননি এই গান?

উত্তর দিতে যাব, এসময় এক রিক্সাওয়ালা বেল বাজালো

– মামা কই?

– আগ্রাবাদ

– উঠেন, হরতাল চলে, একটু খেয়াল কইরেন

মেয়েটি আমার দিকে তাকিয়ে বলল আপনি আগ্রাবাদ যাচ্ছেন?

আমি উত্তর দিলাম ‘হুম’ মেয়েটি রিক্সায় বসে পড়ল এরপর বলল আমিও আগ্রাবাদের দিকে যাচ্ছি, উঠুন আপনাকে নামিয়ে দেব,

ভাবটা এমন যেন উনি আমাকে লিফট দিচ্ছে। আমি চারপাশ তাকালাম। মেয়েটি বলে উঠল, ‘আরে সমস্যা নাই, উঠেন তো, কেউ দেখবে না, আমাদের অস্তিত্ব নাই। না আমার না আপনার না রিক্সাওয়ালার’ এই বলে মেয়েটি হাসতে লাগল, অনেকক্ষন হাসল, হেচকিয়ে হেচকিয়ে হাসছিলো সে, উচ্চস্বরে, কিন্তু আশেপাশের  কেঊ আমাদের দিকে তাকাচ্ছিল না, এমনকি রিক্সাওয়ালাটাও কোনো কেয়ার করছিলো এই উচ্চ হাসির,

অনেকক্ষন পর হাসি থামিয়ে মেয়েটি বলল,

– “আমি দিপা, দিপাবলি। আরো বিস্তারিত বলতে গেলে, সমরেশ মজুমদার এর লেখা সাতকাহন এর প্রধান চরিত্র। পড়েছিলেন উপন্যাসটি?

আমি ভাবছি মেয়েটি তামাশা করছে। ভাবতেই মেয়েটি বলে উঠল

– “মোটেও না, আমি বিন্দুমাত্র তামাশা করছি না, “বলেই অট্ট হাসিতে ভেসে যাচ্ছিল সে, কিন্তু তামাশার কথা আমি মনে মনে ভেবেছিলাম, মেয়েটি জানতে পারল কিভাবে? আবার সে মুখ খুলল,

এটাই হচ্ছে প্রধান সমস্যা। আমি সমরেশ মজুমদার এর বানানো চরিত্র কিন্তু উনি নিজেই জানেন না আমার মাঝে এক অদ্ভুত ক্ষমতা আছে আর তা হল আমি মানুষের মনে বলা কথাগুলো শুনতে পাই। আর সেই তখন থেকে মেয়েটি মেয়েটি বলছেন, নাম বলেছি না?  নাম ধরে ডাকুন”। এইবার চুপ করে গেলাম। ঠিক করেছি এইবার মনে মনে ও কিছু ভাববো না। কিন্তু না, পারলাম না।এই যে ভাবব না এটাও সে শুনেছে। এটা কিন্তু মানুষ চাইলেও পারে না। ুখে চুপ করে থাকা যায় কিন্তু মনে মনে কথা বলাটা চলতেই থাকে। মানুষ চাইলেও তা বন্ধ করে রাখতে পারে না। একটা না একটা টপিক মানুষের মাথায় ঘুরবেই। আমি ভাবতে থাকলাম তাহলে এই যে আমাদের পাশে অজ¯্র মানুষ হাটাচলা করছে তার মানে প্রতি সেকেন্ডে অজ¯্র চিন্তা তৈরি হয়ে আবার হারিয়ে যাচ্ছে আবার তৈরি হচ্ছে আবার হারিয়ে যাচ্ছে।

– মোটা চশমার ফ্রেমটাতে আপনাকে খুব স্মার্ট  লাগছে সাথে থুতনির দাঁড়ি টুকুও বেশ মানিয়ে গেছে,

– জ্বী, ধন্যবাদ,

– তো কি করছেন?

– এই তো সিটি ব্যাংকে চাকরি করছি, আপনি?

– আমি… অনেকদিন কিছু করি না, এখন শুধু লেখালেখি করি। মানুষজন বলে খুব ভালোই নাকি লিখি। বেশ কয়েকটি পত্রিকার সম্পাদকরা ফোন দেয় তারা চায় তাদেরকে লেখা দেই কিন্তু আমি দিচ্ছি না,

– কেন?

– আমি যা লিখি সব ফটোকপি করে ফ্রি তে বিতরণ করি। এই যে এখন কাজেম আলী থেকে বের হলাম। আসলে কি জানেন?  এখন মানুষজন বই পত্রিকায় আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে। বিশেষ করে উঠতি জেনারেশনরা, তারা সহজলভ্য ইন্টারনেট এর কাছে হাত উঁচিয়ে  আত্মসমর্পণ করে আছে।  মোবাইল নামের একটা ডিভাইস তাদেরকে পরিচালনা করছে। ভাবছেন উল্টা কিছু বলছি? মোটেও না। তারা মোবাইল পরিচালনা করছে না মোবাইল তাদেরকে পরিচালনা করছে, তারা দুই হাতের মাঝে একটা বই নিয়ে পড়ার স্বাদকে বিষাক্ত ভাবছে । রাতে ঘুমুবার আগে নির্ভেজাল শ্বাস নেয়ার পরিবর্তে তারা মোবাইল এর স্ক্রিন এ ঢু মেরে বসে থাকছে। এই দলে অবশ্য সবাই নেই কিন্তু শতাংশ হারে বেশিরভাগটাই ওই দলে। আমি দেখতে পাচ্ছিলাম কাগজের তৈরি বই-খাতা-পত্রিকা এইগুলো বিলীনের পথে তাই বিলীনের আগে শেষ চেষ্টায় নেমেছি,

– আপনি আসলে কে??

– দেখুন মিথ্যা নামক একটা শব্দ মানুষ প্রজাতির কাছে আছে কিন্তু আমরা যারা লেখককৃত সৃষ্ট তাদের কাছে মিথ্যা বলে কোনো শব্দ নেই এমনকি এই চরিত্রগুলোর নিজ কোনো ভাষা নেই। লেখক যা বলতে চাইবে তাই ডেলিভার করা হচ্ছে এই চরিত্রের কাজ, সুতরাং এটা নিঃসন্দেহে মেনে নিতে পারেন যে আমি দিপা, দিপাবলি।

দুই

রিক্সা থামানো হল, এখনো আগ্রাবাদ পৌঁছাইনি আমরা। রিক্সা থামানোর কারণ মেয়েটি মানে দীপা চা খাবে। দেওয়ানহাটে টং এর দোকানের বেঞ্চে বসা হয়েছে। দিপা আমার পাশে বসা, রিক্সাওয়ালা আমাদের সামনের বেঞ্চে । আশ্চর্য ব্যাপার হল রিক্সায় উঠার সময় যে রিক্সাওয়ালাকে দেখেছিলাম এ কিন্তু সে নয় এ দেখি আরেকজন। হাতে চায়ের কাপ নিয়ে সিগারেট টানছে। মানুষটার মুখে এক অমায়িক হাসি ছেয়ে যাচ্ছে। এরা যখন তখন হাসতে পারে, ফোনে কথা বলতে পারে, যা ইচ্ছা তা পড়ে কাজে বেরিয়ে পরতে পারে। কিন্তু আমরা পারিনা, অফিসে হাসার আগে চারপাশে দেখে হাসতে হয়, চাপা হাসি তাতে মজাও পাওয়া যায় না। নির্ধারিত ড্রেস, লেইটে আসা কত ঝামেলা পোহাতে হয়।

– তো রিয়াদ সাহেব, গান শোনা হয়?  আমার এখন একটা গান গাইতে ইচ্ছে করছে? আমি আসলেই খুব অবাক হচ্ছি দিপা আমার নাম জানল কিভাবে? যতটুক মনে পড়ে তার সাথে কথা হওয়ার পর থেকে আমি আমার নাম বলিনি। দিপা গান গাওয়ার কথা বলে গাইতে শুরু করল। পাবলিক প্লেসেই গান ধরল সে,

                        “যত ভুল ভেঙে দিয়ে তাই

                                                দেখি ফুল যেদিকেই চাই

                                    দু:খ হয় প্রীতি অরঘ যদি দিয়ে যাও

                                                বেদনা মধুর হয়ে যায়, তুমি যদি দাও”

এটাও গানের শেষ অন্তরা, আমার সব গানের শেষ অন্তরাগুলোই ভাল লাগে এমনকি সংগ্রহে রাখি,

যা-ই হোক আপনার নামটা আপনার গলায় ঝুলিয়ে রাখা নেম প্লেট থেকে পেয়েছি, নামটা সুন্দর, আমি আরেক কাপ চা খাব, চা জিনিসটা খুব ভালো জানেন?  চিন্তা-ভাবনার জগতটাকে হাতের মুঠোয় এনে দেয়, আমার তো চা ছাড়া কিছু ভাবতে বা চিন্তা করতেই ইচ্ছে করে না,

– তো আপনি এখন কি ভাবছেন?

– ভাবছি এখনো অনেক সময় আছে। আপনাকে নিয়ে আর কোথায় যাওয়া যায়?  কারণ এইবার আমি গেলে আর বোধহয় দেখা হবে না আপনার সাথে।

– কোথায় যাবেন?

– কলকাতায়, কোনো এক বাসায়। অনেকগুলো কাগজের ভেতর দুমড়ে-মুচড়ে থাকা সমরেশ বাবুর হাতে লেখা সাতকাহন উপন্যাসের পাতায়। ওখানেই থাকি, আমাদের মৃত্যু নেই তবে শেষ আছে। উপন্যাস বা গল্পের শেষটাই আমাদের শেষ। আমাদের তৈরি করে লেখক মারা যান কিন্তু আমরা মরি না। আমরা বেঁচে থাকি। যেমন কিছুদিন আগে হুমায়ুন আহমেদ মারা গেলেন কিন্তু উনার চরিত্রগুলো ঠিকই এখনো বেঁচে আছে। আমরা এমনই,

– আমরা এখন কোথায় যাব?

– বাসের ছাদে করে ঘুরব চোখ মুছতে মুছতে জবাব দিল দিপা, সে তাহলে কান্না করছিলো, আমি এখন তাকে বিশ্বাস করতে লাগলাম,

– মাথা খারাপ, এই হরতালে বাসে?  ইম্পসিবল,

– আপনি তো বেশ ভিতু। বলেছি না, আমাদের কিছু হবে না। আবার বলছি আমাদের কোনো অস্তিত্ব নেই, না আমার, না আপনার, না রিক্সাওয়ালার।

– রিক্সাওয়ালার কথা বলতেই আমি আবার রিক্সাওয়ালার দিকে তাকালাম। এখনো সে আগের ভঙ্গিতেই আছে। এবারো পাল্টেছে রিক্সাওয়ালা। ১ম আর ২য় রিক্সাওয়ালার সাথে এর মিল নেই। এ দেখছি ছোকরা টাইপের। চা আর সিগারেট হাতে অমায়িক হাসির ভঙ্গি।

তিন

ইতিমধ্যে বাসের ছাদে উঠার ব্যাপারে কালো গায়ের কন্ট্রাক্টর সাথে কথা হয়ে গেছে দীপার। আমি চারপাশে দেখছি। যতটুক মনে পড়ছে আমরা চা খেয়েছিলাম দেওয়ানহাটে কিন্তু আমরা এখন চকবাজারে দাঁড়িয়ে। বিষয়টা আমাকে খুব ভাবাচ্ছে, ‘কই আসুন’ বলেই চেঁচিয়ে উঠল দীপা। কিছুটা কষ্টে বাসের ছাদে উঠা হয়েছে। লম্বা বাসের খালি ছাদে আমরা দু’জন। ছাদের উপর জায়গাটা বেশ ভালো। মাঝখানে বর্ডার দেয়া বসার জায়গা। ছাদের এক কোনে আমি আর আরেক কোনে দীপা বসা, গত নয়-দশ বছর আগে আমার সেজ ফুফুর বিয়েতে কে যেন দুটো বই উপহার দিয়েছিল, ফুফু পড়তে পারতো না বলে বই দূটো আমার রুমে আনা হয়েছে, পান খেতে খেতে নয়া বউ মানে আমার ফুফু বলল “এই নে, এটা তোর জন্য” “পড়া শেষ হলে কাহিনি আমাকে বলবি” আমি বই দুটো হাতে নিলাম। ২ খন্ডের দুটি বই। মোটা ধরণের বইটির নাম “সাতকাহন”, বইয়ের কাভারে এক রমনীর গলায় হাত দিয়ে স্বস্তি নেওয়ার ছবি। বই পড়ার আগেই এই রমনীকে ভালো লেগে গিয়েছিল আমার। বইটা পড়লাম, পড়তে পড়তে দীপা নামের একটা মেয়েকে ভাবতে লাগলাম, ঠিক যেমনটা ভেবেছিলাম বইয়ের দিপাকে তাঁর মতই দেখতে আমার সামনে বসা দিপা। কিন্তু বইয়ের দিপার হাসি আমার জানা নেই। এই দিপা খুব সুন্দর করে হাসে। যখনি হাসে মন খুলে হাসে। হাসার সময় চোখ বন্ধ করে তৃপ্তিসহকারে হাসে সে, উড়ন্ত চুল, বাসের ছাদে খুব বাতাস হচ্ছে, তার ওড়না যেমন উড়ছে তার সাথে তাল মিলিয়ে উড়ছে তার চুলগুলো। কাজলা চোখা এই দিপাকেই আমি কল্পনা করেছিলাম, এখনো হাসছে, হাসার কারণ সে ছাদে উঠার একটা তরমুজ কিনেছিল আর আমাকে বলেছিল একটা গুনার তার যাতে জোগাড় করি, আমি করলাম, আমরা দুজনে তার দিয়ে তরমুজ কাটলাম। সে তরমুজ খাচ্ছে আর তরমুজের খোসা চলন্ত সিএনজি গুলার উপর ছুড়ে মারছে, ড্রাইভার দের বকা শুনার পর হাক ছেড়ে হাসছে খুব হাসছে।

– “দাদুভাই, দাদুভাই”

আমার শরীর ধরে কে যেন নাড়া দিচ্ছে। আমি তাকাচ্ছি না, শব্দ শুনতে পাচ্ছি। “দাদুভাই উঠ, আমরা চলে যাচ্ছি” চোখ খুলে দেখলাম আমরা নাতনি শায়লা আমায় ডাকছে। “বাবা আমরা যাচ্ছি, ঠিকঠাক ঔষুধ খেয়ে নিও, আর প্লিজ চা’টা কম খেও” হাতের ব্যাগ গোছগাছ করতে করতে বলে গেল আমার মেয়ে প্রিতু। চশমাটা পরতে পরতে বললাম।

– একি আজই যাবি? আর কিছুদিন থাক, শায়লাকে কিছুই দেখাতে পারলাম না।

– না বাবা, বাহাদুর এর অফিসে ঝামেলা চলছে, পরে আবার আসা যাবে।

বাহাদুর আমার মেয়ে জামাই। কোন একটা কোম্পানিতে হিসাবরক্ষক এর কাজ করে। আমাকে খুব শ্রদ্ধা করে ছেলেটি। শ্বশুর হওয়া সত্ত্বেও আমাকে স্যার বলে সম্বোধন করে। এবার বাহাদুর যোগ করল,

– জি স্যার, আবার আসব, সামনে কিছুদিন ছুটি আছে  তখন এসে আবার ঢুঁ মেরে যাব।

বিছানা থেকে নেমে বললাম, “ঠিক আছে তাহলে যাও, দেখে শুনে যেও” তারা বেরিয়ে গেল। গেইটের সামনের বাগানে তমা দাঁড়ানো। তমা আমার স্ত্রী। প্রিতুদের কে বিদায় জানানোর জন্যই সে দাড়িয়ে আছে। বাহাদুর বেরিয়ে গিয়েছিল কি ভেবে যেন আবার ভেতরে এসে আমাকে বলল “স্যার ঔষুধ ঠিক মত খাবেন কিন্তু চা খাওয়া কমাবেন না, চা টা বেশ ভালো শরীরের জন্য। সবসময় একটা আমেজ কাজ করে চা খেলে, আসি। “আসসালামু আলাইকুম” বুঝতে আর বাকি থাকলো না। এতক্ষণ যা হয়েছিল তা স্বপ্নে, আমি কিছুতেই বুঝতে পারিনি। কিন্তু দিপা আমাকে বারবার বলেছিলো “আমাদের অস্তিত্ব নেই, না আমার, না আপনার না রিক্সাওয়ালার”

স্বপ্নে আমাদের অস্তিত্ব থাকে না। টেবিল থাকা ফ্লাক্স থেকে কাপে চা ঢাললাম। ঠিক আমার সামনে থাকা বুক সেলফে এখনো সেই আগের ভঙ্গিতেই চোখ বন্ধ আছে সাতকাহন এর কাভারের সেই মেয়েটি। মৃদু হাসলাম। ৬৭ বছর বয়সে যৌবনা স্বপ্ন, তাও দিপাকে নিয়ে।

অলংকরণ – ইতি