বাংলাদেশে পেপাল : তরুণ চলচ্চিত্রকারদের কি লাভ ?

দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে আগামী ১৯শে অক্টোবর ২০১৭। পে-পাল আসছে। সোনালী, রূপালী ব্যাংকসহ নয়টি ব্যাংকে পেপাল সেবা পাওয়া যাবে। বেশ কিছুদিন ধরেই পেপাল কর্তৃপক্ষ বাজার যাচাইসহ নানা পরীক্ষা চালিয়েছে। বাংলাদেশে সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে পেপাল কর্তৃপক্ষ এদেশে পুরোপুরিভাবে তাদের সেবা কার্যক্রম চালু করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আজ তথ্য ও যোগাযোগ প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ ইসলাম পলক জানান যে বাংলাদেশ আইসিটি এক্সপো ২০১৭ এর দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশে পেপাল সেবা উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্যপ্রযুক্তি-বিষয়ক উপদেষ্টা সজীব ওয়াজেদ জয়।

পেপাল কি?

পেপাল হোল্ডিংস একটি আমেরিকান প্রতিষ্ঠান। বিশ্বব্যাপী অনলাইন পেমেন্ট সিস্টেম যার মাধ্যমে শুধু ইমেইল এড্রেস ব্যবহার করে অনলাইনে অর্থ স্থানান্তর করা যায়।অনলাইন বিক্রেতা কোম্পানি বা অন্যান্য বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের জন্য একটি পেমেন্ট ব্যবস্থা, যার জন্যে এটি কিছু পারিশ্রমিক গ্রহন করে থাকে। ১৯৯৮ সালে শুরু করা এই প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ১৯০ টি দেশে ৩০ টি ভিন্ন মুদ্রায় সেবা প্রদান করে আসছে। তবে দীর্ঘদিন পর হলেও পেপাল বাংলাদেশে আসছে যা বাংলাদেশের ফ্রিল্যান্সার ও অনলাইন বাজারের ক্রেতাদের জন্যে বড় সুখবর।

Paypal Logo

পেপাল আসায় চলচ্চিত্রকারদের সুবিধা কি?

১. বাংলাদেশে পেপাল এসে গেলে Filmfreeway, Reelport কিংবা Withoutabox এর মতো আন্তর্জাতিক অনলাইন সাবমিশন সাইটের মাধ্যমে খুব সহজেই বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকারেরা তাদের বানানো ফিল্ম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে জমা দিতে পারবেন। বর্তমানে এসব সাইটের মাধ্যমে ফ্রি এন্ট্রি ফেস্টিভ্যালগুলোতে ফিল্ম জমা দিতে পারলেও বড় ফেস্টিভালের বেশীরভাগই পেইড হওয়ায় এসব ফেস্টিভাল তাই হাতের নাগালের বাইরেই থেকে যায় দেশের চলচ্চিত্রকারদের।

২. বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক মানের চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজকদের জন্যেও এটা বড় সুখবর। কারণ এতোদিন তারা বিদেশের চলচ্চিত্রগুলো জমা নিতে পারতো না, জমা নিলেও বিনা সাবমিশন ফি কিংবা বিভিন্ন বিকল্প ব্যবস্থায় অনেক ঝক্কি ঝামেলা পার করে সাবমিশন ফি সংগ্রহ করতে হতো। কিন্তু পেপাল আসলে দেশের চলচ্চিত্র উৎসবগুলোতে সহজেই বিদেশী চলচ্চিত্রকারেরা তাদের চলচ্চিত্র জমা দিতে পারবে ফলে দেশের মানুষেরা সহজেই চলচ্চিত্র উপভোগ করতে পারবে।

৩. Adorama, Amazon, Bestbuy সহ অন্যান্য অনলাইন শপসহ বিভিন্ন বড় বড় ব্র্যান্ডের অফিশিয়াল শপের ওয়েবসাইট যেখানে নিত্যনতুন ক্যামেরা, ইকুইপমেন্ট, রিগসহ নিত্যনতুন প্রযুক্তির যন্তুপাতি দেখে দেশের ফিল্মমেকারেরা হা-হুতাশ করতেন। যতক্ষণ না পর্যন্ত এই প্রোডাক্ট দেশের বাজারে আসছে যা মাঝে মাঝে কয়েকবছরও লেগে যায়। অনেকে বিদেশ থেকে কেউ এদেশে আসছে এমন কাউকে দিয়ে কিংবা বিকল্প কোন ব্যবস্থায় আনালেও মূল দামের চেয়ে অনেক বেশী টাকা পরিশোধ করতে হয় সেক্ষেত্রে। কিন্তু পেপাল সেবা শুরু হলে খুব সহজেই চলচ্চিত্রকারেরা এসব অনলাইন শপ থেকে পছন্দমতো জিনিস কিনতে পারবেন, কোন প্রকার তৃতীয় মাধ্যম কিংবা বেশী টাকা খরচ না করেই।

ইরান, যেখানে বাইরের কোন দেশ থেকে অনলাইন ট্রানজিকশান নিষিদ্ধ, সেদেশের চলচ্চিত্রকাররা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব থেকে একপ্রকার অবরুদ্ধ। বাংলাদেশেও পেপাল না থাকায়, চলচ্চিত্রকারেরা একপ্রকার অবরুদ্ধের মতোই হয়ে ছিলো। এই কৃত্তিম অবরুদ্ধের অবসান হতে যাচ্ছে শীঘ্রই। বাংলাদেশের চলচ্চিত্রকারেরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের মেধা যাচাইয়ের সুযোগ পাবেন অচিরেই।

লেখক: চলচ্চিত্র নির্মাতা ও প্রবন্ধকার

Advertisements

5 Comments

মন্তব্যসমূহ বন্ধ করা হয়েছে।