Downfall : অন্য দৃষ্টিতে হিটলার

কে আছে যে ‘The Boy in Striped Pajamas’ এর শেষ দৃশ্যে Jewish ছেলেটাকে দেখে কান্না করেনি? ‘Schindler’s List’ এ Jewish ভর্তি ট্রেনে তাদের পানির জন্যে হাহাকার দেখে প্রান কেঁদে ওঠেনি? ‘Life is Beautiful’? মনে পড়ে? Jewish বাবা-ছেলের গেমের কথা? বাবাকে নিয়ে যাওয়ার সময়ও তার ছেলেকে হাসতে হাসতে সাহস দেওয়ার মুহূর্তগুলো? স্বৈরাচারী হিটলারের নাৎসি বাহিনীর বর্বরতার চিত্র ফুটে উঠেছে এই সব মুভিগুলোতে। নাৎসি বাহিনীর বর্বরতায় আমরা কেঁপে উঠেছি, ইহুদীদের করুণ অবস্থা দেখে আমরা চোখ ভিজিয়েছি, নাৎসি বাহিনীর পতন দেখে আমরা স্বস্তি পেয়েছি। হিটলার আত্মহত্যা করেছিলো, তা তো সবাই-ই জানি। কিন্ত কখনো কি জানতে ইচ্ছে করেছে কেমন ছিলো বার্লিনের বাঙ্কারে হিটলারের কাটানো শেষ দিনগুলি? যখন পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে নাৎসিরা, তখন হিটলারের ও তার আশে পাশের ঘনিষ্ট অফিসারদের অবস্থা কেমন হয়েছিলো? তাদের পরিণতি কি ছিল? যদি এই প্রশ্ন জেগে থাকে, তবে তার উত্তর দিতেই নির্মিত হয়েছে Downfall (2004). হিটলারের শেষ সহকারী Traudl Junge যিনি তাঁর সাথে শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ছিলেন, তার বর্ণনার উপর ভিত্তি করেই তৈরি হয়েছে এই মুভিটি। বলাবাহুল্য, এই সিনেমায় আমরা অন্য এক হিটলারকে দেখতে পাবো।
Downfall Poster
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ প্রায় শেষের দিকে। মিত্র বাহিনীর আক্রমনে নাৎসি বাহিনী অনেকটাই কোণঠাসা। হিটলার বার্লিনে মাটির নিচের এক বাঙ্কারে। একে একে নাৎসি অনেক কমান্ডার পরাজয় মেনে আত্মসমর্পণ করে নিচ্ছে। দিশেহারা হিটলার তবুও যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়া এবং কোন ভাবেই বার্লিন ত্যাগ না করার সিদ্ধান্তের ব্যাপারে অটল। কমান্ডারেরা তাদের শেষ সময়টুকু পরিবারকে পাশে পাওয়ার জন্যে যার যার পরিবারকে বাঙ্কারে নিয়ে আসছেন। শেষ মুহূর্তে নিজেদের শিল্পএলাকা গুড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা, হিটলারের মৃত্যুর কয়দিন আগে তার দীর্ঘদিনের সহকারী ইভা ব্রাউনকে বিয়ে করা, আত্মহত্যার প্রস্তুতি নেওয়া, হিটলারের মৃত্যুর পর সবার মনের অবস্থা এ সবই এই মুভিতে ধাপে ধাপে উঠে এসেছে। হিটলারের শক্ত মনোবল, কমান্ডারদের উপর প্রভাব খাটানোর ক্ষমতা আর সর্বোপরি হার না মানা মানসিকতা হিটলারকে নতুন করে চেনাবে। এডলফ হিটলার চরিত্রে ব্রুনো গারজ কি যে অভিনয় করেছে! কি যে অভিনয় করেছেন!! প্রত্যেকটা মুভমেন্ট ছিলো দেখার মতো। দুই হাত পেছনে দিয়ে কুঁজো হয়ে হাটা, দুটো আঙ্গুল সবসময় নাড়তে থাকা, চোখের অভিব্যাক্তি, কথা বলার সময় মুখ থেকে ফেনা উঠা প্রত্যেকটা ডিটেইলস উপভোগ করার মতো। অভিনয়ে একজনের চেয়ে আরেকজন সেরা ছিলো। জোসেফ গবেলস, ইভা ব্রাউন চরিত্রগুলোতে অভিনয়ে বাস্তবতার চেয়ে কোন অংশ কমতি ছিলো না।

Downfall 2

সিনেমার অন্যতম সেরা জিনিস ছিলো সেট ডিজাইন। পুরো মুভিটাই বলতে গেলে বাঙ্কারে কাটিয়ে দেওয়া হয়েছে আর লো লাইটিং করা হয়েছে। বাঙ্কারটা এতই রিয়েলিস্টিক যে, যতক্ষন সিনেমা চলবে দর্শকের মনে হতে বাধ্য যেন তিনি নিজেই বাঙ্কারের ভেতর এ রুম থেকে ওই রুমে হাটছেন। সেক্ষেত্রে সিনেমাটোগ্রাফিও অনেক ভূমিকা রেখেছে বলা যায়। আর ছিলো ডায়লগ! অসাধারণ কিছু ডায়লগ! যখন হিটলারকে বার্লিন ছেড়ে যেতে বলা হলো, তার উত্তর ছিলো, “The war is lost… But if you think that I’ll leave Berlin for that, you are sadly mistaken. I’d prefer to put a bullet in my head”। আর তার অর্ডার অমান্য করায় তার জেনারেলদের প্রতি তার উক্তি ছিলো, “They call themselves generals. Years at military academy just to learn how to hold a knife and fork!” ডায়লগের সাথে অভিব্যাক্তির কথা আর নাইবা বলা হোক।

Downfall 3

প্রথমেই বলা হয়েছে, এই সিনেমায় আমরা অন্য এক হিটলারকে দেখতে পাবো। ব্যাপারটা আসলে এমন না। এভাবে আসলে হিটলারকে কেউ আমাদের সাধারণত দেখায় নি। অন্যসব পরিচালক হিটলারকে একটি মনস্টার টাইপ কিছু বানিয়ে রাখে। Downfall (2004) এই দিক থেকে অন্য মুভিগুলো থেকে আলাদা। এখানে হিটলারকে মানবিক রূপ দেওয়া হয়েছে। অতিরঞ্জিত করে কিছুই দেখানো হয়নি। যারা খারাপ, তাদের সব কিছুই খারাপ না। কিন্তু উদ্দেশ্য আর পন্থা খারাপ হওয়ায় তাদের ভালো গুণগুলোও বিলীন হয়ে যায়। আর যারা খারাপ, তারা আমাদের মতোই মানুষ। আর দশটা মানুষের মতোই তাদের আবেগ আছে, ভালোবাসা আছে, হতাশা আছে। খারাপ যা, তা আর দশজনের কারো মধ্যেই লুকিয়ে থাকে।

উপভোগ করুন Downfall (2004). দেখুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ, একটু অন্যভাবে।

লেখক : আশরাফ আবির – নির্মাতা, চলচ্চিত্র সমালোচক