শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আর্টিস্টিক ক্রাইম: ‘দ্য ওয়াক’

নিউইয়র্কের শান্ত এক সকাল, টুইন টাওয়ার। নাহ, ২০০১ সালের ৯/১১ এর ক্রাইম নিয়ে কিছু না। সময়টা ১৯৭৪ সালের ৭ আগস্ট। ঐদিনও একটা ক্রাইম সংগঠিত হয়েছিল, শতাব্দীর শ্রেষ্ঠ আর্টিস্টিক ক্রাইম। মাটি থেকে প্রায় ১৩০০ ফুট উপরে, ১১০ তলা বিশিষ্ট টুইন টাওয়ারের দুটি ভবনের এক ছাদ থেকে আরেক ছাদে দড়ি বেয়ে হেঁটে যাওয়া, বিপদজনকের পাশাপাশি ‘ক্রাইম’ তো বটেই। হেন কাজটাই করেছিলেন ফ্রেঞ্চ রোপ ওয়াকিং আর্টিস্ট ‘ফিলিপ পেটিট’। আর এই সত্য ঘটনার উপরেই ফরেস্ট গাম্প, কাস্ট এওয়ে, ব্যাক টু দ্য ফিউচার খ্যাত ডিরেক্টর রবার্ট জেমেখিস নির্মাণ করেন অসাধারণ চলচ্চিত্র ‘The Walk (2015)’

Screenshot (225)আর্মি পাইলট বাবার সন্তান ফিলিপ পেটিটের ছোট বেলা থেকেই রোপ ওয়াকিংয়ে প্রতি বেশ আগ্রহ জন্মেছিলো। মাটি থেকে অনেক উচুঁতে মোটা দড়ির উপর লাফানো, সাইকেল চালানোসহ যত ধরণের কসরত আছে তা তিনি শিখে ফেলেছিলেন মাত্র ১৭ বছর বয়সেই। একপর্যায়ে তাঁর কাছে ব্যাপারটা অনেক সহজ এবং একঘেয়ে লাগছিলো এবং তিনি এই রোপ ওয়াকিং নিয়ে বিশেষ কিছু করতে চাচ্ছিলেন সবসময়ই। যদিও ১৯৭১ সালে প্যারিসের নটরডেম টাওয়ারের এমাথা থেকে ওমাথা রশি টানিয়ে এর উপর পারফর্ম করেছেন কিন্তু ক্ষ্যাপাটে পেটিটের এতেও যেন পোষাচ্ছিলো না। আরও ‘ক্রেজি’ কিছু যে চাই তাঁর। তাঁর মন যে পড়ে আছে নিউইয়র্কের টুইন টাওয়ারে। সামনে থেকে দেখা হয়নি তখনো, কেবল নির্মাণকাজ শুরু করার আগে পত্রিকায় প্রস্তাবিত মডেলটা দেখেই মাথায় ঢুকে গিয়েছিলো ‘কুবুদ্ধি’টা। তখন নির্মাণকাজ চলছিলো টুইন টাওয়ারের। পেটিটের উদ্দেশ্য ছিলো বিল্ডিংটা উদ্বোধনের আগে আগে তার কাজটা করে ফেলা কারণ পুরোপুরি উদ্বোধন হয়ে গেলে ছাদে উঠা অসম্ভব হয়ে পড়বে। সে তার কাজ ঠিকঠাক করার জন্যে একটা টিম গঠন করে। দুই বছর ধরে তার প্ল্যানিং, অধ্যাবসায়, বাধা বিপত্তি এসবই উঠে এসেছে The Walk (2015) চলচ্চিত্রে।

Screenshot (227)

রবার্ট জেমেখিস মানেই বিশেষ কিছু। ছিমছাম সুন্দর সব। বাড়াবাড়ি রকমের কিছু নেই। এখানেও ঠিক তাই। মহাকাব্য যেমন- পাঠক জানে শেষে কি হবে কিন্তু সে নিজেকে পড়া থেকে থামাতে পারে না। এখানেও অনেকটা এমন, সবাই জানে সে দড়ির উপর দিয়ে দিনশেষে হাটতে পারবে কিন্তু পরিচালক বরাবরের মতোই ছোট ছোট সাসপেন্স, থ্রিল ক্রিয়েট করে দর্শকদের হা করে তাকিয়ে থাকতে বাধ্য করেছেন। সাথে জোসেফ গর্ডন লেভিট আর বেন কিংসলের অনবদ্য অভিনয় তো রয়েছেই। বলা বাহুল্য, জোসেফ গর্ডন লেভিট এখানে ফিলিপ পেটিটের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পারা না পারার টেনশান অথবা শেষ মুহুর্তের উত্তেজনা কিংবা সফলতার আনন্দ- আহা অভিব্যক্তিগুলো কত সুন্দরভাবেই না ফুটিয়ে তুলেছেন তিনি! The Walk এর অন্যতম অসাধারণ জিনিস হলো সিনেমাটোগ্রাফি। শেষের প্রায় ৩০/৪০ মিনিট যে কি ছিলো! থ্রিডিতে দেখতে পারলে আরো অসাধারণ হয়ে উঠতো নিঃসন্দেহে।

10829383-thewalk3jpg

boldness-philippe-petitরবার্ট জেমেখিসের অন্যান্য সৃষ্টির মতো The Walk ঠিক এতোটা দর্শক মাতাতে পারেনি কথাটা ঠিক কিন্তু এটা থ্রিলার না হয়েও থ্রিলিং, প্রেডিক্টেবল হয়েও এন্টারটেইনিং। পরিবারের সবাই মিলে পপকর্ণ চিবুতে ‍চিবুতে দু’ঘন্টা কাটিয়ে দেওয়ার জন্যে এর চেয়ে সেরা কিছু হতেই পারে না।

লেখা : আশরাফ আবির

ছবি: ‍Sony Pictures Limited