আজকের চলচ্চিত্র : ‘পৃথিবী দিবস’এ দেখার জন্যে সেরা ৫ চলচ্চিত্র

পৃথিবী দিবস বলে আলাদা করে পালন করার কিছু নেই। প্রতিটি দিনই হওয়া উচিত পৃথিবীর জন্যে, পরিবেশের জন্যে, মানুষের জন্যে। তবু পরিবেশ, জলবায়ু, দূষণ নিয়ে বিশেষভাবে সচেতনতার জন্যে প্রতিবছর ২২শে এপ্রিল বিশ্বজুড়ে পৃথিবী দিবস পালন করা হয়।

পরিবেশ তথা পৃথিবী সম্পর্কে সচেতনতা সংক্রান্ত ডকুমেন্টারি কিংবা চলচ্চিত্রে মানুষের বরাবরই অনাগ্রহ।। কিন্তু চলচ্চিত্র পরিচালকেরা তো এই সম্বন্ধে মানুষকে সচেতন করার দায়বদ্ধতা থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারেন না। তাই নিপাট বিনোদনের মাধ্যমেই মানুষকে সচেতন করা নিয়ে বেশ কিছু চলচ্চিত্র হয়েছে যা ব্যবসায়িক ও উদ্দেশ্যগত দিক দিয়ে সফল হয়েছে। আজ পৃথিবী দিবস। আজ এমন ৫ টি চলচ্চিত্রের তালিকা করা হয়েছে, যা বিনোদনতো দিবেই পাশাপাশি পৃথিবী নিয়ে আমাদের কিছুটা হলেও ভাবতে সাহায্য করবে। দেখে নেওয়া যাক।

  1. The Day After Tomorrow (2004)

পরিবেশবিজ্ঞানী জ্যাক হল আবিষ্কার করেন যে, বৈশ্বিক উষ্ণতার কারণে এন্টার্কটিকায় বৃহৎ একটি বরফের পাত ভেঙে পড়েছে। কিন্তু তিনি ধারণাও করতে পারেন নি, এই ঘটনাটা পুরো পৃথিবীর জনসংখ্যা এবং জলবায়ুতে কত বড় একটা প্রভাব ফেলতে যাচ্ছে। গত তিনদিন ধরেই নিউ-ইয়র্কে তীব্র বৃষ্টিপাত হচ্ছে। ইতোমধ্যে আকষ্মিকভাবে পুরো পৃথিবীজুড়েই সুনামিসহ পরিবেশসংক্রান্ত বিভিন্ন দুর্যোগ শুরু হয়েছে। জ্যাক বুঝতে পারে, পৃথিবী এক ভয়াবহ সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। জ্যাক যখন এসব নিয়ে ব্যস্ত, তখনই জানতে পারে তার ছেলে স্যাম সুনামি-আক্রান্ত নিউইয়র্কে আটকে আছে। বাকিটা চলচ্চিত্রেই দেখুন।

২. Wall-E (2008)

ময়লা আবর্জনা পরিষ্কারক করা রোবট ওয়াল-ই’র দিনগুলো একা একাই কাটে। কথা বলার কেউ নেই, একটু হাত ধরবে এমন কেউ নেই। কিভাবে থাকবে? সময়টা তো ভবিষ্যতের, কয়েক হাজার বছর পরের সময়কার পৃথিবী। এ পৃথিবী মানুষ বসবাসের অযোগ্য। পুরো পৃথিবী আবর্জনায় ভরা। মানুষ ইতোমধ্যে সবাই পৃথিবী ছেড়ে নতুন এক যায়গায় আশ্রয় নিয়েছে। যাই-হোক, একদিন ওয়াল-ই একটা ছোট্ট গাছের চারা পায় কিন্তু সে বুঝতে পারে না এটা আসলে কি। কিন্তু এটা বুঝতে পারে, এর পানি আর যত্ন প্রয়োজন। ইতোমধ্যে মানুষেরা পৃথিবীতে জীবনের সন্ধান আছে কিনা, এটা বের করার জন্যে রোবট ইভ কে পাঠায়। অবশেষে ওয়াল-ই একজন বন্ধু পায়। সে ইভকে গাছের ছোট্ট চারাটা দেখায়। এ তো শুরু হলো মাত্র চলচ্চিত্র।

  1. Into the Wild (2007)

১৯ বছর বয়সী ক্রিস্টোফার ম্যাককেন্ডেলস, ধনী বাবার সন্তান। স্নাতক শেষ হওয়ার পর সে অনেকটা সভ্য জগতের চাকচিক্যের বাইরে বাধনহারা, পৃথিবীর সন্তান হিসেবে জীবন কাটাবে বলে ঠিক করলো। তার জমানো সব টাকা বিলিয়ে দিলো, সব ধরনের আইডি কার্ড কেটে ফেলে দিলো। আলাস্কার পথে রওনা হলো ক্রিস্টোফার, পৃথিবীর সত্যিকারের সৌন্দর্য্য উপভোগ করতে, অরণ্যের মাঝে থাকতে। এই যাত্রায় তার এমন সব মানুষের সাথে দেখা হয়, যা ক্রিস্টোফারকে জীবন সম্বন্ধে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে।

৪. Idiocracy (2006)

সাধারণ জনগণ বলতে যা বুঝায়, জো বাউয়ারস ঠিক তাই। ঘটনাক্রমে সেনাবাহিনীর ‘হাই ক্লাসিফাইড’ একটা প্রজেক্টে তাকে নির্বাচিত করা হয় এবং তাকে কফিনে রেখে দেওয়া হয়। কিন্তু কফিন থেকে জো যখন বের হয়, সে নিজেকে আবিষ্কার করে পাঁচশো বছর পরে এবং সে অবাক হয়ে দেখে পৃথিবীর মানুষ সব কেমন যেন বোকা হয়ে গিয়েছে। রাষ্ট্রপতি থেকে সাধারণ সবাই বোকার হদ্দ। তো সে নিমিষেই পুরো পৃথিবীর সবচেয়ে বুদ্ধিমান ব্যক্তি হিসেবে খেতাব পেয়ে যায়। কিন্তু জো বাউয়ারের আরো বহু অবাক হওয়ার বাকি আছে।

৫. Planet Earth (2006)

বিবিসি’র সবচেয়ে ব্যয়বহুল ডকুমেন্টারি সিরিজ যা পুরো পৃথিবীজুড়ে, প্রায় ২০০ টি লোকেশনে ৪০ টি টিম ৫ বছর ধরে ‘এইচডি কোয়ালিটি’তে শ্যুটিং করে। পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের জীববৈচিত্র নিয়ে তৈরী করা এই সিরিজের ১ম সিজনের ১১টি পর্বে পাহাড়, মরুভূমি, বরফাঞ্চল, ঘন জঙ্গল, পানির তলদেশসহ বিভিন্ন অঞ্চলের প্রাণীদের জীবন, শিকার, খাদ্যচক্র, বিলুপ্তি ইত্যাদি উঠে আসে। ৬ টি অ্যামিজয়ী এই সিরিজের দ্বিতীয় সিজনে রয়েছে ৬ টি এপিসোড। ডেভিড এটনবার্গের দুর্দান্ত নেপথ্য কণ্ঠের সাথে অসাধারণ আবহসঙ্গীত, শ্বাসরুদ্ধকর অনুভূতি আনতে বাধ্য।