সত্যজিৎ রায়ের বিখ্যাত ১০ টি উক্তি যা চলচ্চিত্রকার ও লেখকদের উপকারে আসবে

সত্যজিৎ রায়, বাংলা চলচ্চিত্রের সবচেয়ে বড় দিকপাল। বাংলা সাহিত্য ও চলচ্চিত্রে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। আজ তাঁর জন্মবার্ষিকীতে চোখ বুলিয়ে নিবো চলচ্চিত্র ও সাহিত্য নিয়ে কিছু বিখ্যাত উক্তিতে, যা তরুণ চলচ্চিত্রকার এবং লেখকদের উপকারে আসতে পারে। দেখে নেওয়া যাক।

১. আসলে, (চলচ্চিত্রে) সবচেয়ে যা গুরুত্বপূর্ণ, তা হলো শুভ একটা সমাপ্তি। যা-ই হোক, আপনি শুভ একটা সমাপ্তির আগে ট্র্যাজিক কোন অবস্থা এবং কিছু কান্নার সিকোয়েন্সও রাখতে পারেন, এটা ভালো কাজ দিতে পারে।

২. যখন আমি কোন গল্প লিখতে শুরু করি, এমন মানুষকে নিয়ে লিখি যাকে নিয়ে আমার চিন্তুা করাটা সহজ হবে এবং এমন অবস্থা নিয়ে লিখি আমি যার সাথে পরিচিত। ১৯শতকের সময়কার কোন গল্প আমি লিখি না।

৩. আবহসঙ্গীতের ধারণা দিনে দিনে বেশ পরিবর্তিত হচ্ছে। এখন (পরিচালকেরা) যতটা পারা যায় কমই ব্যবহার করার চেষ্টা করেন।

MCDHOAN EC099

৪. আমার চিত্রগ্রাহক এবং আমি একটা মেথড নিয়ে চিন্তা করছিলাম এবং আমার দ্বিতীয় চলচ্চিত্র থেকে এটা সবসময়ই করতাম। মেথডটা হলো, ইনডোরের শ্যুটিং দিনের আলোয় করা এবং লাইটটাকে সরাসরি না ফেলে বাউন্স করে ফেলা। আমরা দুইজনে এক ব্যাপারে ঐক্যমত্যে এসেছিলাম যে ক্যারেক্টারেরর ছায়া খুবই বিরক্তিকর একটা জিনিস।

৫. যখন আপনার গল্পে নতুন কোন চরিত্র আসবে, আপনি অবশ্যই তার চেহারা ও পোশাক -আশাকের বর্ণনা যতটা পারা যায় বিস্তারিতভাবে লিখবেন। আপনি যদি তা না করেন, পাঠক নিজের মতো করে চিন্তু করে নিবে যেটা পরবর্তীতে আপনার সাথে মিলবে না।

৬. আমি এখনো পর্যন্ত ১৭ কি আঠারোটার মতো চলচিচত্র বানিয়েছি যার মধ্যে মাত্র দু’টো মৌলিক চিত্রনাট্য, আর বাকি সবই ছোট গল্প কিংবা উপন্যাসের উপর ভিত্তি করে লেখা। আমার মনে হয়, ছায়া অবলম্বনে চিত্রনাট্য লিখার জন্যে বড় দৈর্ঘে্যর ছোটগল্পই উপযুক্ত।

৭. যখন আমি কোন লোকেশনে শ্যুটিং করি, নিজে নিজেই ওই লোকেশন থেকে কিছু না কিছু উদ্ভাবন করার চেষ্টা করি। হয়তো আপনি মূল জিনিসটা পরিবর্তন করতে পারবেন না কিন্তু গুরুত্বপূর্ণ কোন পরিবর্তন (যা চলচ্চিত্রটিকে আরো ভালো করতে পারে) চাইলে করতেই পারেন। আমি সাধারণত এটা করে থাকি। আর যা-ই হোক, একটু হিসেবী তো হতেই হবে।

31৮. বিশেষত, (একটা চলচ্চিত্র নির্মানের) শেষ সময়ে এসে আমি প্রায়ই খেয়াল করি আমি বেশ তাড়াহুড়ো করছি। এটা খুবই বিপদজনক যখন দেখবেন আপনি সম্পানদার টেবিলে বসে তাড়াহুড়ো করছেন। আমার শুরুর দিককার সময়ের অধিকাংশ চলচ্চিত্রেই বড় রকমের ভুল রয়ে গিয়েছিলো এই তাড়াহুড়োর কারনে।

৯. চলচ্চিত্রের অন্যতম দক্ষতা হলো মানুষের মন বোঝার এবং তার সাথে যোগাযোগ করার ক্ষমতা এর রয়েছে।

১০. বলিউডের চলচ্চিত্র এখন যেমন, আগে তেমনটা ছিলো নাআগে এটা স্থানীয় একটা ইন্ডাস্ট্রি ছিলো যেখানে বস্তুনিষ্ঠ ও বাস্তবধর্মী চলচ্চিত্র নির্মিত হতো। কিন্তু ধীরে ধীরে এটা পাল্টে গিয়েছে।