সত্যিকারের সিরিয়াল কিলারের উপর নির্মিত শ্রেষ্ঠ ৫টি চলচ্চিত্র।

চলচ্চিত্রপ্রেমী মানুষদের পছন্দের জনারগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ‘সিরিয়াল কিলিং’। সিরিয়াল কিলার মস্তিষ্ক বিকৃত একজন মানুষ, যিনি কোন একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য হাসিল করতে কিংবা স্রেফ মজার জন্যে খুন করে। খুনগুলো সাধারণত একই ধরনের হয়ে থাকে এবং একটার সাথে অন্যটার সংযোগ থাকে। সিরিয়াল কিলিং এর উপর অনেক চলচ্চিত্র হয়েছে যার অনেকগুলোই ‘থ্রিলার’লাভাররা পছন্দের তালিকায় বেশ উপরের দিকেই রাখেন। কিন্তু আজ আমরা এমন কিছু চলচ্চিত্র নিয়ে কথা বলবো, যে চলচ্চিত্রগুলো নির্মিত হয়েছে বাস্তব জীবনের সিরিয়াল কিলারদের উপর ভিত্তি করে।

5. 10 Rillington Place (1971)

সিরিয়াল কিলার : জন রেগিন্যাল্ড হ্যালিডে ক্রিস্টি

১৯৪০ থেকে ১৯৫০ এর সময়কার কথা। ইংলিশ সিরিয়াল কিলার জন ক্রিস্টি লন্ডনের নটিং হিলের ১০ রিলিংটন প্লেসে তার নিজের বাড়িতে তার নিজের স্ত্রীসহ প্রায় ৮ জনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এই হত্যাকান্ড চলাকালীন পুরোটা সময় তিনি ধরাছোঁয়ার বাইরে ছিলেন। ১৯৫৩ সালে যখন তিনি রিলিংটনের বাড়ি ছেড়ে চলে যান, তখনই তার কুকীর্তি ফাঁস হয়ে যায়। তার রান্নাঘরের তাক থেকে লুকানো অবস্থায় ৩ টি লাশ উদ্ধার করা হয়। তার স্ত্রীর দেহ পাওয়া যায় সামনের রুমের মেঝের নিচ থেকে। এই সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে, ১৯৭১ সালে রিচার্ড ফ্লেইশার নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘১০ রিলিংটন প্লেস’ যেখানে জন ক্রিস্টির চরিত্রে অনবদ্য অভিনয় করেন অস্কারজয়ী পরিচালক রিচার্ড এটনবর্গ।

4. Badlands (1973)

সিরিয়াল কিলার : চার্লস রেমন্ড স্টার্কওয়েদার, ক্যারিল অ্যান ফুগাতে

টিনএজ চার্লস রেমন্ড স্টার্কওয়েদার এবং তার ১৪ বছর বয়সী গার্লফ্রেন্ড ক্যারিল অ্যান ফুগাতে ছিলো ‘মেড ফর ইচ আদার’ বলতে যা বোঝায়। ১৯৫৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের এই জুটি ২ মাসের লম্বা ড্রাইভে বের হয় এবং নেব্রাস্কা এবং উমিংয়ে তারা ১১ জনকে খুন করে। এই ঘটনার উপর ইষৎ ভিত্তি করে বিখ্যাত চলচ্চিত্রকার টেরেন্স মালিক নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ব্যাডল্যান্ডস। অবশ্য এখানে বলে রাখা ভালো, সত্য ঘটনা অবলম্বনে হলেওে এখানে পরিচালক প্রচুর ‘এক্সপেরিমেন্ট’ করেছেন। মার্টিন শীন অভিনীত অসাধারণ এই চলচ্চিত্রটি ‘সাংস্কৃতিক, ঐতিহাসিক এবং নান্দনিক সৌন্দর্যের জন্যে’ ১৯৯৩ সালে আমেরিকান লাইব্রেরী অফ কংগ্রেস দ্বারা সংরক্ষণের জন্যে নির্বাচিত হয়।

3. Citizen X (1995)

সিরিয়াল কিলার : আন্দ্রে রোমানোভিচ চিকাতিও

১৯৭৮ থেকে ১৯৯০, এই লম্বা সময়ে রাশিয়ার ত্রাশে পরিণত হন তিনি। একের পর এক নারী এবং শিশু খুন হতে থাকে। ১৯৯০ সালে ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত ‘দ্য বুচার অভ রোস্তভ’, ‘দ্য ফরেস্ট স্ট্রিপ কিলার’সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত আন্দ্রে রোমানোভিচ চিকাতিও খুন করেন ৫২ জনকে (তার নিজের ভাষ্যমতে ৫৬ জনকে)। ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর এই সিরিয়াল কিলারের উপর ভিত্তি করে ১৯৯৫ সালে পরিচালক ক্রিস গেরোলমো নির্মাণ করেন মাস্টারপিস ‘সিটিজেন এক্স’। এই চলচ্চিত্রে এতগুলো খুনের তদন্ত এবং রোমানোভিচকে খুঁজে বের করার পুরো কাহিনী বিশদভাবে উঠে এসেছে। চলচ্চিত্রে তদন্তকারী কর্মকর্তা মিখাইল ফেটিসভের চরিত্রে অসাধারণ অভিনয় করা ডোনাল্ড সাদারল্যান্ড ‘সাপোর্টিং রোল’ ক্যাটাগরিতে গোল্ডেন গ্লোব পেয়েছিলেন। উল্লেখ্য, ২০১৫ সালে রিলিজ পাওয়া টম হার্ডি অভিনীত ‘চাইল্ড ৪৪’ও এই কাহিনী অবলম্বনে নির্মিত।

2. Memories of Murder (2003)

সিরিয়াল কিলার : ???

কি? উপরে ‘???’ দেখে অবাক হচ্ছেন? অবাক হওয়ার কিছু নেই। নাম থাকবে কি করে? খুনিকে যে কখনো ধরাই সম্ভব হয়নি! ‘হাওয়াসিয়ং সিরিয়াল মার্ডার’ বলে পরিচিত এই ঘটনা ঘটে দক্ষিণ কোরিয়ার হাওয়াসিয়ংয়ে। ১৯৮৬ থেকে ১৯৯১ পর্যন্ত হাওয়াসিয়ংয়ে ১০ জন মেয়ের হাত-পা বাঁধা লাশ পাওয়া যায় যাদের প্রত্যেকেই ধর্ষিত, নির্যাতিত অবস্থায় ছিলো। রাজধানী থেকে গোয়েন্দা পাঠানো হয়েছিলো, দীর্ঘদিন তদন্ত হয়েছিলো কিন্তু এসব খুনের কোন কূলকিনারা করতে পারা যায়নি এখনো। ‘হাওয়াসিয়ং সিরিয়াল মার্ডার’ নিয়ে ২০০৩ সালে গুণী পরিচালক ‘জন-হু বং’ নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র মেমোরিস অফ মার্ডার। টানটান উত্তেজনার এই চলচ্চিত্রটি বিখ্যাত হয়ে আছে এর শেষ দৃশ্যের জন্যে। উল্লেখ্য, কিংবদন্তি পরিচালক কুইন্টন টারান্টিনো ১৯৯২ সালের পর থেকে তাঁর দেখা শ্রেষ্ঠ ২০ টি চলচ্চিত্রের মধ্যে এই চলচ্চিত্রকে রেখেছেন।

1. Zodiac (2007)

সিরিয়াল কিলার : জোডিয়াক (ছদ্মনাম)

জোডিয়াক, ইতিহাসের অন্যতম রহস্যজনক সিরিয়াল কিলার। নামটা তাকে কেউ দেয়নি, সে নিজেকে নিজেই দিয়েছে। ১৯৬৮ থেকে ১৯৬৯, এই সময়ে সে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো, লেক বেরেস্যা, বেনিসিয়া, ভ্যালেজাতে ৪ জন পুরুষ এবং তিনজন মহিলাকে খুন করে। ঘটনা কিন্তু এখনো এতটুকু না। খুনি শুধু খুন করেই শান্ত থাকেনি, সে স্থানীয় পত্রিকায় চিঠি পাঠাতে থাকে যেখানে ৪ টা ক্রিপ্টোগ্রাম (এক ধরণের পাজল, যেখানে বিশেষ পদ্ধতিতে লেখা লুক্কায়িত করে রাখা যায়) ছিলো যার মধ্যে কেবল একটি ক্রিপ্টোগ্রামেরই সমাধান হয়েছে এখনো পর্যন্ত। চিঠিতে সে জানায় সে পরকালের জন্যে ‘দাস-দাসী’ যোগাড় করতেই খুনগুলো করছে। পুলিশ তন্ন তন্ন করে খুঁজতে থাকে জোডিয়াককে কিন্তু সে থেকে যায় পুরোপুরি ধরাছোঁয়ার বাইরে। রহস্যজনক জোডিয়াককে নিয়ে শক্তিশালী পরিচালক ২০০৭ সালে নির্মাণ করেন চলচ্চিত্র ‘জোডিয়াক’। তারকাবহুল এই চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন রবার্ট ডাউনি জুনিয়র, জ্যাক গ্যালেনহ্যাল, মার্ক রাফলোসহ আরো অনেকে। উল্লেখ্য, ১৯৭৪ সালে জোডিয়াক তার শেষ চিঠিটি পাঠালেও তাকে ঘিরে তদন্ত চলতে থাকে দীর্ঘদিন। অবশেষে ২০০৪ সালে কেসটি ‘নিষ্ক্রিয়’ বলে বন্ধ করে দেওয়া হেয়। কিন্তু ২০০৭ সালে এই চলচ্চিত্রটি মুক্তির পরপরই আবার কেসটি ওপেন করা হয়।