চলচ্চিত্রের প্রতি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা বেড়েছে বহুগুণ : আহমেদ হিমু

আহমেদ হিমু, চিত্রগ্রাহক, পরিচালক। ভালোবাসেন অভিনয় করতেও। বিসিটিআই (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট) এ দ্বিতীয় ব্যাচের প্রথম স্থান অধিকারী। চলচ্চিত্র পরিচালনা ছাড়াও চলচ্চিত্র, টিভি নাটক, বিজ্ঞাপনচিত্র এবং অসংখ্য মিউজিক ভিডিওতে তিনি সিনেমাটোগ্রাফি করেছেন। পাশাপাশি বর্তমানে নিজের পরবর্তী চলচ্চিত্র নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সর্বদা হাসিখুশি ‘আহমেদ হিমু’ আইয়ের মুখোমুখি হয়ে বলেছেন তাঁর চলচ্চিত্রজীবন ও ভাবনার কথা। সাথে ছিলেন শারাফাত আলী শওকত।

আই: কখন বুঝতে পেরেছিলেন যে চলচ্চিত্রই আপনার সবকিছু?

আহমেদ হিমু: এটা আসলে আমার পক্ষে বলা একটু কঠিন, ভালোলাগা থেকে টুকটাক কাজ করতে করতে কখন যে সিনেমার ভালোবাসায় জড়িয়ে পড়েছি টেরই পাইনি। তবে চলচ্চিত্রই আমার সব কিছু কিনা এটা এখনো কিন্তু ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি। সত্যি বলতে কি আমি আসলে আমার কথাগুলো বলতে চাই, আমার কল্পনা, ভালো ফ্রেমের ভেতর আনতে চাই, সেগুলো মানুষের কাছে পৌঁছেও দিতে চাই নান্দনিকভাবে। আর সেটি চলচ্চিত্রে খুব বেশি সম্ভব। আসলে আমার চাওয়ার তালিকাটি মনে হয় বেশ দীর্ঘ, হা হা হা হা হা।

আই: বিসিটিআই (বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট) বাংলাদেশ সরকারের তথ্য মন্ত্রণালয় এর অধীনে পরিচালিত একমাত্র সরকারী পূর্ণাঙ্গ চলচ্চিত্র শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এখানে দ্বিতীয় ব্যাচের প্রথম স্থান- অনুভূতিটা কেমন?

আহমেদ হিমু: শুধু চলচ্চিত্র শিক্ষায় নয়, যেকোনো ক্ষেত্রেই প্রথম হওয়ার একটি অন্যরকম অনুভূতি কাজ করে। সেই অন্য রকমটি যে কেমন সেটিও প্রকাশ করা দুঃসাধ্য। যখন আমি শুনি যে আমি প্রথম হয়েছি তখন আমি আমার গ্রামের বাড়ী রাজশাহীতে বন্ধুদের সাথে আড্ডা দিচ্ছিলাম। শোনার পর কিছুক্ষণ চুপ ছিলাম, অনুভুতি তখনো প্রকাশ করতে পারিনি, এখনো পারছি না। কারণ প্রথম হবো বা হতেই হবে এটা ভেবে পরীক্ষাগুলো দেইনি। আমি যতটুকু জানি ততটুকু প্রকাশের চেষ্টা ছিলো। তবে এটুকু বলা যায় প্রথম হওয়ায় চলচ্চিত্রের প্রতি দায়িত্ব ও দায়বদ্ধতা বেড়েছে বহুগুণ।

DCIM100MEDIADJI_0083.JPG

আই: এটা কি অবশ্যই জরুরি যে, চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার গড়তে হলে ঢাকায় থাকতেই হবে?

আহমেদ হিমু: চলচ্চিত্র যেকোনো জায়গা থেকেই হতে পারে। এর জন্য যে আপনাকে ঢাকাতেই থাকতে হবে ব্যক্তিগতভাবে এটি আমি মনে করি না। ঢাকার বাইরে অনেক ছোট বড় চলচ্চিত্র নির্মিত হচ্ছে। এই তো কিছু দিন আগে রাজশাহীতে ‘প্রত্যাবর্তন’ নামে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মিত হয়েছে, যেটির অভিনয় শিল্পী থেকে শুরু করে কারিগরি বিষয়াদি সবকিছু রাজশাহীতে করা হয়েছে এবং এই চলচ্চিত্রটি দেশে বিদেশে বিভিন্ন উৎসবে সমাদৃতও হয়েছে। আপনি একটু খোঁজ করলে এরকম আরও চলচ্চিত্র পাবেন যার জন্য ঢাকাতে আসতেই হয়নি। আজকাল ঢাকার বাইরে প্রচুর ছোট ছোট কাজ হচ্ছে। আমার তো মনে হয় চলচ্চিত্রকে আরও অনেক বেশি ছড়িয়ে দেয়া প্রয়োজন দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল পর্যন্ত। এজন্য স্থানীয়ভাবে চলচ্চিত্র নির্মাণে মানুষদের আগ্রহী করতে প্রশিক্ষণ দেয়া প্রয়োজন। তবে যেহেতু চলচ্চিত্র খুব ব্যয়বহুল একটি কারিগরি শিল্পমাধ্যম আর অন্যান্য শহরের তুলনায় ঢাকায় এই কারিগরি সুবিধাসমূহ একটু সহজলভ্য তাই ঢাকায় থাকলে চলচ্চিত্রে ক্যারিয়ার তৈরি করতে একটু সুবিধা হয়।

Bap 4আই: আপনি তো অভিনয়ও করেছেন, এই বিষয়টা কেমন উপভোগ করেন?

আহমেদ হিমু: আমি আসলে সিনেমা বিষয়ক সকল কাজই উপভোগ করি, আর ‘বাপজানের বায়োস্কোপ’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করার সময়ের চেয়ে বড় পর্দায় যখন দেখেছি তখন বেশি উপভোগ করেছি। কারণ ঐ চলচ্চিত্রে আমি ছিলাম প্রধান সহকারী পরিচালক, তাই সবসময় ঐ গল্পের মধ্যেই ছিলাম, অভিনয়টা এর মাঝেই হয়ে গিয়েছে। আমি টেরই পাইনি। এর একটা বড় কারণ হতে পারে যখন শুটিং হয়েছে তখন আমরা সিরাজগঞ্জের একটি দুর্গম চরে ছিলাম। এমনিতেই মার্চ মাস, তার ওপর বিরান চর, প্রচ- রোদ আর গরম। এই গরমে ‘বাবা’ গেঞ্জি-লুঙ্গি খুবই আরামদায়ক পোশাক, আমি যে ‘ইনসান’ চরিত্রে অভিনয় করেছি তার পোশাকও কিন্তু তাই। এজন্য আমি পুরো শুটিং এর সময়ই ‘বাবা’ গেঞ্জি-লুঙ্গি পরেছিলাম, আর এই পোশাকই আমাকে সবসময় চরিত্রের মাঝে থাকতে সাহায্য করেছে, যখন আমি অভিনয় করি বা অন্যান্য কাজ। এছাড়াও বেশ কিছু টেলিভিশন নাটকে অভিনয় করা হয়েছে, ভালোই লাগে।

w1আই: বর্তমানে কি করছেন? আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

আহমেদ হিমু: বর্তমানে আমি চিত্রগ্রহণের কাজই করছি বেশি। কয়েকটি চলচ্চিত্র, বেশ কিছু বিজ্ঞাপনচিত্র, মিউজিক ভিডিও, প্রামাণ্যচিত্র আর টেলিভিশন নাটকের কাজ করছি। এখন কয়েকটি কর্পোরেট হাউসের বিজনেস প্রমোশনাল ভিডিও নির্মাণ করছি। আমার পড়াশুনা যেহেতু চলচ্চিত্র নির্মাণ বিষয়ে তো চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা তো আছেই, আগামী মে-জুনে ইনশাআল্লাহ আমার চলচ্চিত্র ‘পুষ্পলতা’র কাজ শুরু করতে পারবো। এখন প্রি-প্রোডাকশন এর কাজ চলছে।

* তরুণ যারা সিনেমাটোগ্রাফার আছেন, তাদের জন্য কোনো মৌলিক উপদেশ?

আহমেদ হিমু: আমি নিজেই তরুণ সিনেমাটোগ্রাফার তাই অন্যদের উপদেশ দেয়ার দুঃসাহস আমার নেই। অন্যদের কাছ থেকেই আমি পরামর্শ পেতে চাই, যেন বাংলাদেশকে একটি পরিচ্ছন্ন, সুন্দর দেশ হিসেবে বিশ্বের দরবারে উপস্থাপন করতে পারি। তবে একটা বিষয় শেয়ার করা যায়, আজকাল বহু তরুণ চিত্রগ্রাহক অনেক বেশি যন্ত্রের ওপর নির্ভরশীল হয়ে যাচ্ছেন, আমার মনে হয় খুব বেশি যন্ত্রপ্রেমী না হয়ে একটি ছবিকে কতটা নান্দনিক, অর্থপূর্ণ ও সুন্দর করা যায় সেদিকে নজর দেয়াটা জরুরী। আমার জন্য দোয়া করবেন। ধন্যবাদ।