সরল, সাবলীল, সত্য, সুন্দর The Beautiful Red

সৃষ্টির অবধারিত নিয়মে  সকলেই আবদ্ধ; জীবনের ধারায় একই পথে চলা, একই হাট হয়ে ফেরা, একই আবহে বেড়ে উঠা মানুষগুলো ভিন্ন লক্ষ্যের বিভিন্ন গন্তব্যে ভিন্ন  ভিন্ন চিন্তা লালন করে। সে চিন্তার সুতোয় মানবিকতা ও নগর কেন্দ্রিক মানসিকতার বিচ্ছিন্ন  অবস্থানের নিরন্তর পুণরুক্তির নিম্নোক্ত প্রতিফলন:

একটি শহর বাঁচে তার ছোট ছোট অস্থিত্ব নিয়ে

ছোট ছোট দুঃখ নিয়ে ভিন্নতার পথে।

আমরা মানুষেরা বাঁচি আমাদের ক্ষুদ্রতা নিয়ে,

মিল অমিলের হিসেব নিয়ে

আমরা শহর হয়ে উঠি।

একটি শহর বাঁচে ছোট ছোট দুঃখ নিয়ে ভিন্নতার পথে…

Screenshot (181)এমনই বিষয়বস্তু নিয়ে নির্মিত ‘দ্যা বিউটিফুল রেড’। কথাগুলোরই জীবন্ত রূপায়ণ ধরা দেয় প্রায় ১৪ মিনিটের এ স্বল্পদৈর্ঘ্য চিত্রনাট্যে। নাগরিক সমাজকে উপজীব্য করে গড়ে উঠা কাহিনীর মূল বিষয়বস্তু ছিল জীবন বাঁচাতে রক্ত দানের মাহাত্ম্য। তবে পূজার টিউটরের আগমন দিয়ে শুরু হলেও পরবর্তীতে আরও তিনটি রক্তদান সংশ্লিষ্ট প্রেক্ষাপট তুলে ধরা হয়। এক্ষেত্রে পূজা রিয়াদ স্যারের জীবন বাঁচাতে রক্ত দিয়ে আমাদের ভাবতে শেখায় যে মানবতাই প্রকৃত ধর্ম যেখানে বর্ণ বা সম্প্রদায় গৌণতা পায়।  দ্বিতীয় ঘটনে এক তরুণের দ্বারা মূমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচানোর তাগিদ উপেক্ষিত হতে দেখা যায়  যার পরবর্তী ধাপে এড়িয়ে যাওয়া ব্যক্তিটির পিতার দুর্ঘটনা ও রক্তের অপ্রতুলতা তারই অনুশোচনার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। অপর এক অবতারণায় প্রিয় মানুষের জন্মদিনে রক্তদানের মানসিকতায় মুগ্ধ হতে হয়। তবে অন্য ঘটনে তরুণের রক্তদানের অক্ষমতা তার জীবনে অমানিষা বয়ে আনে যার ফলশ্রুতিতে  বন্ধু  ও আপনজনের অবজ্ঞার শিকার হতে হয়। এ ব্যর্থতা জীবনকে করে তুলে অসহনীয় এবং অন্ধকারতূল্য এ জীবন অর্থহীন বলা যায়।

Screenshot (180)সামগ্রিক বিবেচনায় এ স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র বিষয়বস্তুর উপস্থাপনে বেশ সফলই বলা যায়, সরল ও সাবলীল ধারার দৃশ্যায়নই মূলত গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। সংলাপ বিবেচনায় স্বাভাবিকতা ও স্পষ্টতা প্রশংসনীয় যা গল্পের বৈচিত্রতা আনয়নে ও শ্রুতিমাধুর্যতা বৃদ্ধিতে ভূমিকা রেখেছে। তবে আবেগ, অনুভূতির ক্ষেত্র বিবেচনায় হয়ত এহেন গল্পে আরও গভীরতা আনার সুযোগ ছিলো। তথাপি, এ ধরণের বিষয়বস্তু চয়ন, চরিত্রায়ন ও মনোমুগ্ধকর নির্মাণের জন্য নির্মাতা ও কুশলীদের অভিনন্দন জানাই। আর সমাজের মানবিক অবস্থানের যথার্থ প্রতিফলন ঘটানোই এ দৃশ্যপটের সার্থকতা বলা যায়।

প্রতিবছর এ দেশে প্রায় ৭ লক্ষ মিলিয়ন ইউনিট রক্ত দান করা হয়। এ রক্ত মানুষের সাথে মানুষের সম্পর্কের সাথে সাথে জীবনের মাত্রিকতারও পরিচায়ক। যে পৃথিবীর সাথে আমাদের জন্ম-মৃত্যুর সম্পর্ক তার বুকে জরাগ্রস্ত মানবের পাশে দাঁড়ানোর ভালোলাগা অতুলনীয়। রক্তের প্রবাহমান ধারায় গড়ে উঠা সম্পর্ক যেন জীবনকালের নয়, জীবনাতীত কালেরও। তাই হয়ত Shannon L. Alder বলেছিলেন, “Hide yourself in God, so when a man wants to find you he will have to go there first.”

লেখক: মোহাম্মদ সাজরুল ইয়াকিন ফারাজী, লেখক ও চিত্রনাট্যকার