ফুটবল নিয়ে নির্মিত সেরা ৫টি চলচ্চিত্র

পুরো দেশ ফুটবল বিশ্বকাপ জ্বরে কাঁপছে। শুধু কি টিভির পর্দায়! রাস্তায়, গাড়িতে, খেলার মাঠে, ফেসবুকে কোথায় নেই ফুটবল। সবখানে বিরাজ করা ফুটবল কেন থাকবে না চলচ্চিত্ররে পর্দায়! সন্ধ্যার পর থেকে তো খেলা দেখতেই বসে যাওয়া হবে, বাকি সময়টাতেও যারা ফুটবলে মেতে থাকতে চান, তাদের জন্যে ফুটবল নিয়ে নির্মিত ৫ টি চলচ্চিত্র নিয়ে আজকে হাজির হওয়া। বলে রাখা ভাল, ফুটবল নিয়ে নির্মিত ফিকশনগুলো কেন যেন ধোপে টিকতে পারে না। এদিক থেকে, ডকুমেন্টারিগুলো বেশ আকর্ষণীয় হয় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই। তাই ডকুমেন্টারিতে অনাগ্রহীরাও এই ডকুমেন্টারিগুলো ট্রাই করে দেখতে পারেন। হতাশ হবেন না।

৫. দ্য রেফারি (২০১০) (The Referee)

দেশ: সুইডেন

জেনার: শর্ট ডকুমেন্টারি

বিখ্যাত সুইডিশ রেফারি মার্টিন হ্যানসন। রেফারিদের আজন্ম স্বপ্ন, বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনা করা, তিনিও তার ব্যতিক্রম নন। সামনেই ২০১০ দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপ, সব কিছু ঠিকঠাকই চলছিল। স্বপ্ন খুব বেশী দূরে নয় কারণ আগের বছরটা বেশ ভালোভাবেই কেটেছে তার। কিন্তু ১৮ নভেম্বর ২০০৯, প্যারিস। ফ্রান্স বনাম আয়ারল্যান্ডের খেলা। তার জীবনের সবচেয়ে বিভীষিকাময় রাত যেন। অতিরিক্ত সময়ের গোলে দুই লেগ মিলিয়ে এগিয়ে যায় ফ্রান্স। থিয়েরি হেনরির পাস থেকে দেওয়া গোলটি পরিষ্কার হ্যান্ডবল ছিল যা দৃষ্টি এড়িয়ে যায় রেফারি ও লাইন্সম্যান দুজনেরই। ফলাফল, বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন ভেঙে যায় আইরিশদের। সাথে সাথেই রেফারি হ্যানসনের উপর নেমে আসে নরক। পরবর্তী সময়ে হ্যানসনের অবস্থা, স্বপ্ন, স্বপ্নভঙ্গ নিয়ে দুর্দান্ত স্বল্পদৈর্ঘ্য ডকুমেন্টারি দ্য রেফারি (২০১০)।

৪. গোল! দ্য ড্রিম বিগিনস (২০০৫) (Goal! The Dream Begins)

দেশ: যুক্তরাষ্ট্র

জেনার: ফিকশন, ড্রামা

বিশ্বের লাখ লাখ কিশোরদের মতো লস এঞ্জেলসের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বাস করা সান্টিয়াগো মুনেজেরও স্বপ্ন বড় দলে ফুটবল খেলা। কিন্তু মেক্সিকো থেকে চুরি করে আসা দরিদ্র পরিবারে বাস করা সান্টিয়াগোর জন্যে সেই স্বপ্ন যেন আকাশ ছোঁয়া ব্যাপার। কিন্তু স্বপ্নের পালে হাওয়া লাগে যখন নিউক্যাসেল ইউনাইটেডের একজন স্কাউট তার খেলা দেখে এবং আমন্ত্রণ জানায়। বাধা বিপত্তি পেরিয়ে শুরু হয় সান্টিয়াগোর স্বপ্ন যাত্রা। মূল কাহিনী খানিকটা সাদামাটা হলেও এই চলচ্চিত্রটি মূলত বিখ্যাত হয়ে অছে জিনেদিন জিদান, রাউল , ডেভিড ব্যকহামদের ক্যামিও দৃশ্যের জন্যে। তবে ফুটবল নিয়েই সময় কাটাতে চাইলে, দেখে ফেলাই যায়।

৩. মেসি (২০১৪) (Messi)

দেশ: স্পেন

জেনার: ডকুমেন্টারি

অনেকে ডাকে ফুটবল জাদুকর, অনেকে ডাকে ইশ্বর। আর্জেন্টিনার রোজারিও থেকে বার্সালোনায় বর্তমান অবস্থানে। কেমন ছিল লিওনেল মেসির পথচলা? রোজারিওর প্রতিবেশী থেকে শুরু করে বার্সালোনার সতীর্থ, সবার চোখে কেমন মেসি? জেরার্ড পিকে, ইনিয়েস্তাদের কথায় উঠে এসেছে বার্সালোনায় মেসির শুরুর দিনগুলোর কথা। মেসির ট্যকটিকস ও স্কিলের বিশ্লেষণ করেছেন এয়াহান ক্রুইফ, আলেজান্দ্রো সাবেলারা। মেসিভেক্তদের জন্যে মাস্টওয়াচ একটা চলচ্চিত্র নিঃসন্দেহে।

২. পেলে: বার্থ অফ এ লেজেন্ড (Pele: Birth of a Legend)

দেশ: যুক্তরাষ্ট

জেনার: ফিকশন, বায়োগ্রাফি

১৯৫৮ সালে ফুটবলের কালো মানিক পেলের হাত ধরে প্রথম বিশ্বকাপ ঘরে তুললো ব্রাজিল। কিন্তু ব্যাপারটা কতোটা কঠিন ছিল তা পুরোটাই বোঝা যায় এই চলচ্চিত্রে। ১৯৫০ এ, হাত থেকে কাপটা অনেকটা ছিনিয়ে নিয়ে গেল উরুগুয়ে। ’৫৪তে কোয়ার্টার ফাইনালে বিদায়। ব্রাজিলের দর্শক, সমর্থক, কোচ সবাই ব্রাজিলের চিরাচরিত ‘জিংগা’ স্টাইলের উপর বিরক্ত। ’৫৮তে এলেন পুরোপুরি জিংগা নির্ভর পেলে। কিন্তু  এবার কোচ আর এই স্টাইলে খেলাবেন না। কিন্তু নাছোড়বান্দা পেলে এভাবেই খেলবেন। ইনজুরি নিয়েও খেলতে লাগলেন বিশ্বকাপ। ফাইনালের আগে আবার ব্রাজিল দলকে অপমান করে বসলো তৎকালীন শক্তিশালী দল সুইডেনের কোচ।  পেলের উত্থান, ৫৮ বিশ্বকাপ জয় এবং পটভূমি সব উঠে আসে অসাধারণ এই চলচ্চিত্রে। ব্রাজিল ভক্তদের এই সিনেমা মিস করা উচিত হবে না কোনভাবেই।

১. দ্য টু এস্কোবারস (২০১০) (The Two Escobars)

দেশ: কলম্বিয়া

জেনার: ডকুমেন্টারি

দুই জগতের দুই এস্কোবার। একজন কলম্বিয়া এমনকি বিশ্বের অন্যতম বৃহত্তম মাদক ব্যবসায়ী পাবলো এস্কোবার, অপরদিকে আরেকজন কলম্বিয়ার ফুটবল দলের অধিনায়ক তাদের ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ খেলোয়ার আন্দ্রেস এস্কোবার। সময়টা ১৯৯৪ সাল। লস এঞ্জেলস বিশ্বকাপে অন্যতম ফেভারিট র‌্যাঙ্কিংয়ে ৪ নম্বরে থাকা দল কলম্বিয়া। কলম্বিয়ার পক্ষে কোটি কোটি টাকার বাজি ধরছে মাফিয়ারা। অবশ্য তৎকালীন ফুটবল নিয়ন্ত্রণে মাফিয়াদের দৌরাত্ম অজানা কিছু নয়। ফুটবলের পেছনে অঢেল টাকা ঢালছে তারা। ফুটবল মাঠ যেন মাফিয়া গডদের শক্তি প্রদর্শণের জায়গা। সবকিছু ঠিকঠাকই ছিল কিন্তু বিপদ ঘটলো তখনই, যখন আন্দ্রেস এস্কোবারের আত্মঘাতী গোলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিল কলম্বিয়া। আর এই আত্মঘাতী গোলের মূল্য তাকে দিতে হলো জীবন দিয়ে। মাফিয়াদের কাছে নৃশংসভাবে খুন হন তিনি।

না, পাবলো এস্কোবারের হাতে মারা যাননি তিনি, এমনকি তাদের মধ্যে কোন সংযোগও ছিল না। কিন্তু পরিচালক দুই মেরুর একই নামধারী এই দুজনকে এক করার মাধ্যমে তুলে এনেছেন সেই সময়ে কলম্বিয়ার ফুটবলের সাথে মাদক, রাজনীতির মধ্যকার সম্পর্ক যার করুণ পরিণতি বরণ করে নিতে হয় আন্দ্রেস এস্কোবারকে। খেলা দেখার ফাঁকে এর পেছনের কালো অধ্যায়গুলো নিয়ে আগ্রহী হলে দেখে ফেলা যায় অসাধারণ এই ডকুমেন্টারিটি।