অ্যাকশন মাস্টারপিস ‘মিশন ইম্পসিবল: ফলআউট’

সিনেমার ভালো লাগা মন্দ লাগার ব্যাপারটা অনেক ক্ষেত্রেই আপেক্ষিক। সিনেমা দেখতে দেখতে অনেক পরিচালক, অভিনেতা-অভিনেত্রী কিংবা সিনেমা ফ্র্যাঞ্চাইজির প্রতি দুর্বলতা তৈরী হওয়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। ‘মিশন ইম্পসিবল’ ফ্র্যাঞ্চাইজিটা অনেকটা তেমনই। আমাদের অনেকের কৈশোর জীবনের সাথেই এটা মিশে আছে। আর তাইতো, এই ফ্র্যাঞ্চাইজির ষষ্ঠ ফিল্ম ‘মিশন ইম্পসিবল: ফলআউট’  দেখার আগে উত্তেজনাটাও ছিল একটু অন্যরকম।

সিন্ডিকেটের প্রধান, কুখ্যাত সন্ত্রাসী সলোমন লেনকে গ্রেফতার করা হয়েছে অনেক দিন হয়েছে। সিন্ডিকেটের বাকী সদস্যদের নিয়ে জন লার্ক নামে এক উগ্রবাদী ব্যবসায়ী তৈরী করেছে নতুন এক সংগঠন, এপোস্টেলস। IMF এর কাছে গোপন খবর এসেছে যে নতুন সংগঠন এপোস্টেলস তিনটি প্লুটোনিয়াম কোর তাদের দখলে নেওয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিকল্পনা ভেস্তে দিতে বার্লিনে হাজির হয় ইথান হান্ট। কিন্তু দুর্ভাগ্যক্রমে প্লুটোনিয়াম কোরগুলো অল্পের জন্যে হাতছাড়া হয়ে যায়। কোরগুলো উদ্ধারের নতুন মিশনে নামে ইথান কিন্তু তার সাথে CIA জুড়ে দিয়েছে তাদের এক এজেন্ট অগাস্ট ওয়াকারকে, যার কাজ হলো মিশনের খবরাখবর CIAকে অবহিত করা। কিন্তু অগাস্ট ওয়াকার কি কেবলই CIA এজেন্ট নাক অন্যকিছু? শুরু হয় মিশন, প্লুটোনিয়াম উদ্ধার করা, পাশাপাশি অগাস্ট ওয়াকারকে ছাড়িয়ে যাওয়া।

MV5BZDc3OGUyMTgtMzI3OC00YmNkLTg2MGYtOTdjMzYyMzkwYmVlXkEyXkFqcGdeQXVyNjUwNzk3NDc@._V1_কি? সেই নতুন বোতলে পুরনো মদ মনে হচ্ছে? একদমই তা নয়। সিনেমার সিক্যুয়েল যত বাড়তে থাকে, সিনেমার মান তত খারাপ হতে থাকে, কিন্তু ‘মিশন ইম্পসিবল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ঠিক উল্টো। যত সময় যাচ্ছে আরো অসাধারণ, আরো দুর্দান্ত হয়ে উঠছে। স্ক্রিপ্ট লিখেছেন পরিচালক ক্রিস্টোফার ম্যাকুয়ারি নিজেই। ‘দ্য ইউজুয়াল সাসপেক্ট’খ্যাত এই লেখক এমনভাবে পুরো কাহিনীর ভাঁজে ভাঁজে টুইস্ট, সাসপেন্স রেখেছেন যে ‘বোর’ হওয়ার নূন্যতম সুযোগটাও নেই। সেই সাথে আছে মানানসই কমেডি। কমেডি এই ফ্র্যাঞ্চাইজির অবিচ্ছেদ্য অংশ। বেনজি’র চরিত্রে সাইমন পেজ আছেন সেই চিরাচরিত ভূমিকায়। মিশন ইম্পসিবল সিরিজের সিনেমায় সবচেয়ে বেশী কমেডি ছিল বোধহয় ‘ফলআউট’এই। সিনেমার শেষের দিকের দু’একটা ব্যাপার বাদ দিলে কমেডি কখনোই গল্পের সিরিয়াসনেসকে নষ্ট করেনি।

MV5BMjA3MTA0NTgxMF5BMl5BanBnXkFtZTgwNzc5Nzc1NTM@._V1_SX1777_CR0,0,1777,937_AL_অ্যাকশন সিনেমার প্রাণ হলো অ্যাকশন দৃশ্যগুলো। আর এই যায়গাতে সবসময়ই আপোষহীন টম ক্রুজ। কিন্তু এবার যা হলো্, তুলনাহীন! টম ক্রুজের ‘কমিটমেন্ট’ নিয়ে কথা বলে লেখা লম্বা করতে চাইনা। কে না জানে তার ডেডিকেশনের কথা! আর একশন দৃশ্যগুলো এই সিরিজের বেস্ট তো বলাই যায়, সর্বকালের সেরা অ্যাকশন বললেও প্রতিবাদ করার মতো মানুষ খুব একটা পাওয়া যাবেনা। এবারো স্টান্টগুলো নিজেই করেছেন। দুর্দান্ত বাস্তবিক একশন দৃশ্যগুলোর জন্যে সিনেমাটোগ্রাফির কথা বিশেষভাবে উল্লেখ করতেই হয়। বিশেষত, প্লেন থেকে ‘হলো জাম্প’ কিংবা বরফের পাহাড়ের মাঝে হেলিকপ্টারে ঝুলে থাকার দৃশ্যগুলো অনেকদিন মনে রাখার মতোন। পুরো সিনেমার সিনেমাটোগ্রাফিই অসাধারণ। দুর্দান্ত অ্যাকশন দৃশ্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলা ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর দৃশ্যগুলোকে করেছে আরো প্রাণবন্ত, জীবন্ত। স্টার সিনেপ্লেক্সের থ্রিডিটা আরেকটু ভালো হলে ব্যাপারটা আরো জমতো নিঃসন্দেহে।

MV5BYTM3YjZkYzktNWQzMS00YjUyLWFiZTQtZTNhNmI2OWVjNTAwXkEyXkFqcGdeQXVyNTgzMjEwMTg@._V1_SY1000_CR0,0,1736,1000_AL_অভিনয়ের কথা বলতে গেলে বিশেষভাবে ‘হেনরি কাভিল’র কথা উল্লেখ করতেই হবে। অনেক বেশী মানিয়েছে তাকে খল চরিত্রে। অগাস্ট ওয়াকার চরিত্রটা তার ক্যারিয়ারের মোড়ই পাল্টে দেবে সম্ভবত। অন্যদের অভিনয় বরাবরের মতোই উপভোগ্য। ‘মিশন ইম্পসিবল’ ফ্র্যাঞ্চাইজির অন্যান্য ফিল্মগুলোতে ‘ইমোশনাল ইলিমেন্ট’ অতোটা দেখা না গেলেও ফলআউট’র শেষটা ইমোশনাল করার চেষ্টা করা হয়েছে, তাই শেষটা একটু অন্যরকম লাগতেই পারে।

সর্বোপরি একথা বলাই যায়, দুর্দান্ত স্ক্রিপ্টের সাথে অসাধারণ একশন দৃশ্যের পরিপূর্ণ্ প্যাকেজের অন্য নাম ‘মিশন ইম্পসিবল: ফলআউট’ খুব দ্রুতই মাস্টারপিস সিনেমার তালিকায় নাম লেখাতে যাচ্ছে নিঃসন্দেহে। মুক্তির প্রায় ৪ সপ্তাহ পরেও সুপারহিট তকমা লাগিয়ে বিশ্বব্যাপী চলছে। স্টার সিনেপ্লেক্সেও এখনো চলছে, চলতে পারে সেপ্টেম্বর প্রায় পুরোটাই। এখনো না দেখে থাকলে দেখে আসুন, মিস করবেন না।

লেখা: আশরাফ আবির