চলচ্চিত্র পরিচালকের জীবনে এরচে বেশি আর কী লাগে!?

আক্ষেপ ছিলো অনেক— পরিবার-পরিজন নিয়ে সিনেমা দেখার কোন সুযোগ এখানে নেই।

জি হ্যাঁ, আমি চট্টগ্রামের কথাই বলছি। দিগ্বিজয়ী সিনেমা বানানোর মিশনতো শুরু করেছিলাম ১৫ বছর আগে যখন কলোনীর বাচ্চাদেরকে মজার মজার সিনেমা দেখানোর জন্য Children’s Eye Fair Film Society (#CEFFS) এর ব্যানারে বন্দর রিপাবলিক ক্লাবে পলাশ, তামিম, যীশু, ইউসুফ, জামি, জাবেদ, জিয়া, হিমেল, পিন্টুসহ আরো অনেকে মিলে গলদঘর্ম হয়ে চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করেছিলাম। চবি দর্শন বিভাগের মোজাম্মেল স্যার ছিলেন চমৎকার সব মুভি কালেকশনের গুরু। সে-ই শুরু। ছায়াছবি দেখাতে গিয়েই আবিস্কার করলাম— বাচ্চাদের নিয়ে কিংবা বাচ্চাদের সাথে বসে দেখার মতো ছবি আমাদের দেশে তৈরি হয় না— ছুটির ঘন্টা, এমিলের গোয়েন্দা বাহিনী আর দীপু নাম্বার টু— এই ছিলো সবেধন নীলমনি! চিন্তা করলাম, নাহ্, মুভি বানানোর জন্য তৈরি হতে হবে। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও মাথায় আসেনি যে, আমাদের জন্য আরো আরো সমস্যা তৈরি হচ্ছে!!

২০১৫ সালে চিটাগং শর্ট‘র এর যাত্রা শুরুর পর খোদার ফজলে চট্টগ্রামে স্বাধীনভাবে সিনেমা বিষয়ক আলাপ করা কিংবা একসঙ্গে সিনেমা বানানোর লোকজন তৈরি হচ্ছে, মাশাআল্লাহ্।

কিন্তু আয়নাবাজি মুক্তি পাবার পর জানলাম এত্তোবড় চট্টগ্রাম শহরে সর্বসাধারণের জন্য শুধুমাত্র দুইটি সিনেমা হল অবশিষ্ট আছে— সিনেমা প্যালেস এবং আলমাস। একের ভিতর দুই হিসেবে দিনারকেও ধরা যায়। বাকীসব মার্কেট, গুদাম কিংবা ধ্বংসস্তুপ। কী আর করা! ছারপোকার কামড় খেয়ে ৪/৫ বার আয়নাবাজি দেখেছি— লোকজনকে ভরসা দেয়ার জন্য যে, দেখতে পারবেন— এই দেখেন আমিও দেখছি!

শাহজাহান শামিম ভাই আর আমার মাথায় তখন অন্যচিন্তা— অত্যাধুনিক সিনেপ্লেক্স লাগবে। বানাতে হবে। প্রজেক্টও তৈরি করা হলো। কয়েকজন পাওয়ারফুল ধনাঢ্য ব্যক্তির সাথে মিটিংও করলাম। দেখি খুব একটা পাত্তা দিতে রাজি নন। ভাবলাম, নাহ্ একটু অবস্থান তৈরি করে নিই— তারপর নিশ্চয়ই শুনবে, আইডিয়া কাজে লাগাবে।

শুরু হলো সমান্তরাল নতুনযাত্রা— রুফটপ সিনেপ্লেক্স। ফেসবুকে গ্রুপ বানিয়ে আইডিয়া শেয়ারিং চলতে থাকলো— শাহজাহান শামিম ভাই আগে আগে। শামিম ভাই আর আমি যার যার সামর্থ্য অনুসারে নিজেদের প্রোডাকশন হাউস বড় করতে লাগলাম। সাথে সাথে চলতে লাগলো জনে জনে আইডিয়া শেয়ার করা। হাউস বড় করা শুরু করলাম— তরুণ নির্মাতাদের জন্য শ্যুটিং ইকুইপমেন্ট সহজলভ্য ও সহজসাধ্য হতে থাকলো।

২০১৫ সালে নিজের স্বপ্নের গল্প বলে চলে গিয়েছিলেন নির্মাতা রায়হান রাফী। নাহ্, আমরা ছাড়িনি। করতে লাগলাম নানান আয়োজন আর নাড়ির সাথে জুড়ে দিতে থাকলাম প্রাণের শহর চট্টগ্রামকে। জীবনে হয়তো ভাবেননি যে, চট্টগ্রামে এভাবে কোন সিনেপ্লেক্সে তাঁর সিনেমা চলবে। মুক্তি পাবার ১১ সপ্তাহ পরও হাউসফুল হলে দর্শক নাকের পানি চোখের পানি এক করতে করতে সিনেমা দেখবে— তাঁরই সিনেমা। দর্শকনন্দিত ও ব্যবসাসফল সিনেমা— পোড়ামন ২।

দর্শকের সামনে পরিচালক রায়হান রাফীকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার সাথে সাথে শুরু হলো উন্মাদনা। জাজের পোড়ামন ২ ছায়াছবির পরিচালক রায়হান রাফী সিলভার স্ক্রীন সিনেপ্লেক্সে সিনেমার মধ্যবিরতিতে দর্শকের সাথে মতবিনিময় করলেন। শুরু হলো দর্শকের মোবাইল ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক ক্লিক শব্দরাশি। দর্শক ভূয়সী প্রশংসায় ভাসিয়ে দিলেন নির্মাতাকে। ওয়াদা নিলেন, এমন আরও সিনেমা বানাতে হবে— পরিবার পরিজন সাথে নিয়ে যেনো দেখা যায়!

একজন চলচ্চিত্র পরিচালকের জীবনে এরচে বেশি আর কী লাগে, প্রিয় Raihan Rafi?!

Photo : Sharafat Ali Shawkat

Special thanks to Silver Screen Multiplex Authority!

Grateful to Wahid Malek, the mentor ❤️

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.