‘অর্ঘ্য’র ঘরে ৩টি পুরষ্কার, শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র ‘তবে কি পলায়নেই মঙ্গল?’

চিটাগং শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১৯ এর শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরষ্কার পেয়েছে ‘তবে কি পলায়নেই মঙ্গল?’ তবে শ্রেষ্ঠ পরিচালকসহ তিনটি পুরষ্কার গিয়েছে অর্ঘ্য’র কাছে। এছাড়া শ্রেষ্ঠ বিদেশী চলচ্চিত্রের পুরষ্কার পেয়েছে ভারতের চলচ্চিত্র ‘দ্য রকস্টার’।

গতকাল চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের বঙ্গবন্ধু মিলনায়তনে জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মাধ্যমে পর্দা উঠে চতুর্থ চিটাগং শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০১৯ এর। প্রথমে লালগালিচা সংবর্ধনা প্রদানের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম পত্রিকা দৈনিক আজাদীর পরিচালনা সম্পাদক ওয়াহিদ মালেক। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চিটাগং শর্টের প্রেসিডেন্ট ইসমাইল চৌধুরী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক একেএম ফজলুল্লাহ, বিশিষ্ট চলচ্চিত্র সমালোচক ও সাংবাদিক নাজিমুদ্দিন শ্যামল, নাট্যজন প্রদীপ দেওয়ানজি, সানশাইন গ্রামার স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ সাফিয়া গাজী রহমান, চিত্রনাট্যকার শাহজাহান শামীম এবং সামিট এলায়েন্স পোর্ট লিমিটেডের সিনিয়র জিএম মোহাম্মদ মাহিনুল হক। প্রধান অতিথির বক্তব্যে ওয়াহিদ মালেক বলেন, “ফ্যাক্টরিতে অর্ডার করে চলচ্চিত্রকার নির্মাণ করা যায় না, চলচ্চিত্রকার নির্মিত হয় ফিল্ম ফেস্টিভ্যালেই।” বর্তমানে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে হাওয়া বদল শুরু হয়েছে উল্লেখ করে তিনি আরো বলেন, “যে দিন বদলের হাওয়া লেগেছে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে, তা ধরে রাখতে ফিল্ম ফেস্টিভ্যালের অবদান অনস্বীকার্য।”

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পরপরই উৎসবের বিশেষ মাস্টারক্লাস পরিচালনা করেন বিশিষ্ট চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রশিক্ষক হায়দার রিজভী এবং প্রখ্যাত চলচ্চিত্রকার রায়হান রাফি৷ ‘প্যাশন’ শিরোনামের মাস্টারক্লাসে রায়হান রাফি তাঁর চলচ্চিত্রে আসার পেছনে যে নিষ্ঠা ও ভালোবাসা কাজ করেছে, সে বিষয়টিই তুলে ধরেছেন।

দুপুর ১২:৩০টা, ২:৩০টা এবং ৪:৩০টায় তিনটি চলচ্চিত্র প্রদর্শনীতে দর্শকেরা উপভোগ করেন দেশ-বিদেশ থেকে জমা পড়া চলচ্চিত্র থেকে ‘অফিশিয়াল সিলেকশন’ হিসেবে নির্বাচিত ২১টি চলচ্চিত্র। হাউজফুল শো থেকে বের হয়ে দর্শকেরা পছন্দের বাংলা চলচ্চিত্রকে ভোট দিয়েছেন যার উপর ভিত্তি করেই অডিয়েন্স চয়েস এ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয়।

সন্ধ্যায় একই ভেন্যুতে অনুষ্ঠিত হয় পুরষ্কার বিতরণী অনুষ্ঠান। শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্রের পুরষ্কারটি ফুয়াদুজ্জামান ফুয়াদ পরিচালিত ‘তবে কি পলায়নেই মঙ্গল?’ পেলেও ‘অর্ঘ্য’ চলচ্চিত্রের টিমের খুশির সীমা ছিল না৷ শ্রেষ্ঠ পরিচালক এবং শ্রেষ্ঠ অভিনেতার পুরষ্কার পেয়েছেন অর্ঘ্যের রুদ্রনীল আহমেদ এবং অনিক দাস। অডিয়েন্স চয়েস এ্যাওয়ার্ডও পেয়েছে ‘অর্ঘ্য’। শ্রেষ্ঠ অভিনেত্রীর পুরষ্কার পেয়েছেন ‘জয়া’ চলচ্চিত্রের মূল চরিত্রে অভিনয় করা হুমায়রা হিমু। এছাড়াও শ্রেষ্ঠ বিদেশী চলচ্চিত্রের পুরষ্কার পেয়েছেন বিনয় জাসওয়াল পরিচালিত ফিল্ম ‘দ্য রকস্টার’।

আগামী মে মাসে পঞ্চম চিটাগং শর্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ২০২০ এর ক্ষণগণনা শুরু করে উৎসবের সমাপ্তি ঘোষণা করেন ফেস্টিভ্যালের ডিরেক্টর শারাফাত আলী শওকত।