কিংবদন্তি কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদের পরলোক গমন

জনপ্রিয় ও কিংবদন্তি় কৌতুক অভিনেতা টেলি সামাদ আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৭৪ বছর। আজ শনিবার বেলা দেড়টায় রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন। জানা গেছে, গতকাল শুক্রবার বাসায় অসুস্থ হওয়ার পর তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তিনি হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর আসল নাম আবদুস সামাদ। তবে দর্শকদের কাছে ‘টেলি সামাদ’ নামেই তিনি বেশি পরিচিতি পান।

১৯৪৫ সালের ৮ জানুয়ারি মুন্সিগঞ্জের নয়াগাঁও এলাকায় টেলি সামাদ জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা থেকে উচ্চতর শিক্ষা গ্রহণ করেন। তার বড় ভাই চারুশিল্পী আব্দুল হাই।

১৯৭৩ সালে ‘কার বউ’ চলচ্চিত্রে কৌতুকাভিনয়ের মাধ্যমে চলচ্চিত্র জগতে প্রবেশ করেন। নয়নমনি ও ‘পায়ে চলার পথ’-এর মত চলচ্চিত্রের মাধ্যমে দর্শকপ্রিয়তা লাভ করেন। ‘মনা পাগলা’ চলচ্চিত্রে সঙ্গীত পরিচালনার পাশাপাশি ৫০টির মত চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দেন। অভিনয়জীবনে চার দশকে ৬০০’র মত চলচ্চিত্রে অভিনয় করেন।

বাংলাদেশ টেলিভিশনের ক্যামেরাম্যান মোস্তফা মামুন তার ডাক নাম দিয়েছিলেন টেলিসামাদ। তারপর থেকে তিনি এ নামেই পরিচিত হন। ২০১৫ সালে তার অভিনীত সর্বশেষ চলচ্চিত্র জিরো ডিগ্রী মুক্তি পায়।

তাঁর অভিনীত উল্লেখযোগ্য চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে জিরো ডিগ্রী (২০১৫), কুমারী মা (২০১৩), সাথী হারা নাগিন (২০১১), মায়ের চোখ (২০১০), আমার স্বপ্ন আমার সংসার (২০১০), রিকসাওয়ালার ছেলে (২০১০), মন বসে না পড়ার টেবিলে (২০০৯), কাজের মানুষ (২০০৯), মায়ের হাতে বেহেস্তের চাবি (২০০৯), কে আমি (২০০৯), হাশেম, কেয়ামত থেকে কেয়ামত (১৯৯৩), মিস লোলিতা (১৯৮৫), নতুন বউ (১৯৮৩), মাটির ঘর (১৯৭৯), নাগরদোলা (১৯৭৯), গোলাপী এখন ট্রেনে (১৯৭৮), বঙ্গা অশিক্ষিত (১৯৭৮), কালাজয় পরাজয় (১৯৭৬), গুন্ডা (১৯৭৬), জব্বার, সুজন সখী (১৯৭৫), বগাচাষীর মেয়ে (১৯৭৫), রঙিন রূপবান, ভাত দে।