২০১৮: বাংলা চলচ্চিত্রের একটি ব্যতিক্রমী বছর

বিগত কয়েক বছর ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্র নিয়ে অভিযোগের শেষ নেই। এই অভিযোগ মূলত ব্যর্থতা আর ভেঙে পড়ার। প্রতিবছর নতুন প্রত্যাশা নিয়ে আরম্ভ হলেও দিন শেষে ব্যর্থতার পাল্লা ভারী করে বছর শেষ করতে হয়। যায় দিন ভালো আসে দিন খারাপ কথার মত বলতে হয় দিনে দিনে ঢাকাই চলচ্চিত্রের সংখ্যা কমে যাচ্ছে। ২০১০ এর আগে ঢাকাই চলচ্চিত্রে বছরে ৯৫ থেকে ১০০টি করে চলচ্চিত্র মুক্তি পেতো। কিন্তু কালের পরিক্রমায় তা কমতে কমতে নেমে এসেছে অর্ধ শতকের কাছাকাছি। সংখ্যা ও হলের অবকাঠামোর দিক থেকে ২০১৮ সাল বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য মোটেও সুখকর ছিল না। রুটিন করে হল বন্ধ হয়ে যাওয়ার তালিকায় এবারো শামিল হয়েছে ঢাকার পূর্ণিমা, রাজশাহীর উপহার সিনেমা হলের মত হল। ব্যবসায়িক মন্দা আরো একবার চোখে আঙুল তুলে চলচ্চিত্র প্রেমীদেরকে দেখিয়েছে শত আশা জাগানিয়া কথা শুধু খাতা কলমেই থেকে যায় বাস্তবে তা রূপ নেয় না। ২০১৮ তে বিভিন্ন গণমাধ্যমের হিসাব অনুযায়ী বাণিজ্যিক ও বিকল্প ধারার ছবি মিলিয়ে এই বছর মুক্তি পেয়েছে মোট ৫৭টি ছবি, যার ১২টি আমদানি করা ও ৩টি যৌথ প্রযোজনার। তার মানে নিরেট দেশি ছবি সংখ্যা মাত্র ৪২টি, যার মধ্যে বেশিরভাগ ছবিতেই পুঁজি তুলতে পারেননি প্রযোজকরা। বর্তমান ইন্ডাস্ট্রির অবস্থা নিয়ে শুনলে মনে হয় আগে বছরে ২০০-২৫০ ছবি মুক্তি পেত ১২০০ প্রেক্ষাগহে, সে কথা ঠাকুমার ঝুলি’র গল্পের আধুনিক ভার্সন। সারাবছরে টেনেটুনে হাফ সেঞ্চুরি। ২০১৮ যে সব চলচ্চিত্র মুক্তি পেয়েছে তাদেরকে আমরা আলোচনা করতে পারি কতগুলো ভাগে-

ব্যবসা সফল আলোচিত চলচ্চিত্র:
২০১৮ সালে সিয়াম-পূজা জুটি বড় প্রাপ্তি বলা যায়। এ বছরের অন্যতম ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র ‘পোড়ামন-২’ ও ‘দহন’। সিয়াম-পূজা জুটির সাথে পরিচালক রায়হান রাফির অভিষেক হয় ঢালিউডে। জাজ মাল্টিমিডিয়ার পক্ষ থেকে এ দুটি চলচ্চিত্রকে সুপারহিট বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। সিনেমা দুটি দর্শক নন্দিত হলেও সমালোচকদের থেকে বেশ সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে চলচ্চিত্র দুটিকে। পোড়ামন-২ এর ক্ল্যাইম্যাক্স দক্ষিণ ভারতের চলচ্চিত্র থেকে এবং দহন এর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে অনেক সমালোচক বলেছেন রাজনৈতিক প্রোপাগান্ডা হিসাবে দেখানো হয়েছে। পুরোপুরি নিখুঁত চলচ্চিত্র উপহার দিতে না পারলেও এ দুটি চলচ্চিত্র মন্দার বাজারে দর্শক ধরতে পেরেছে।
হুমায়ূন আহমেদের গল্প নিয়ে জয়া আহসানের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সি তে সিনেমা ঢালিউডে উপহার দেয় বহুল আলোচিত চলচ্চিত্র ‘দেবী’। বলা যায় এ বছরের সব থেকে বড় ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র ‘দেবী’। সাধারণ মানুষকে ব্যাপকভাবে হলে টানতে পারলেও এ চলচ্চিত্রটি সমালোচকদের মন ভরাতে পারেনি। সিনেমার এন্ডিং, মিসির আলী চরিত্রায়ন কিংবা গল্পের গভীরতা নিয়ে কথা থেকেই গিয়েছে সমালোচকদের মধ্যে। ওয়ার্ল্ড সুপারন্যাচারাল সিনেমার বিচারে দেবী অনেকটা সফল হলেও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি সমালোচকদের।

নির্মাণে এগিয়ে আলোচিত চলচ্চিত্র:
২০১৮ সালের শুরুর দিকে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয় গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’ চলচ্চিত্রটি। মনপুরা চলচ্চিত্রের দীর্ঘ ৯ বছর পর বড় পর্দায় ‘স্বপ্নজাল’ নিয়ে ফিরে আসেন গিয়াস উদ্দিন সেলিম। স্বপ্নজাল ব্যাবসায়িকভাবে সফল না হলেও আলোচনায় উঠে আসে পরীমনি ও নবাগত ইয়াস রোহান। পরীমনির ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা চলচ্চিত্র হিসাবে বিবেচিত হচ্ছে ‘স্বপ্নজাল’। সিনেম্যাটোগ্রাফি এবং মিউজিকের জন্য যেমন ব্যাপক আলোচিত হয়েছে স্বপ্নজাল ঠিক তেমনই সমালোচিত হয়েছে দুর্বল ভিজুয়্যাল এফেক্ট এবং সীমানা পারাপারের ঘটনাগুলো। ‘মাটির প্রজার দেশে’ ছিল ২০১৮ এর সব থেকে বড় চমক। নির্মাণের দিক থেকে এগিয়ে থাকলেও শুধুমাত্র প্রচারণার জন্য মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারেনি বিজন ইমতিয়াজ পরিচালিত এ চলচ্চিত্রটি। জয়া অভিনীত ‘পুত্র’ ছবিটিও মুক্তি পায় এ বছর। টিভি পর্দার বাইরে আলোচিত হয়নি এ ছবি। এ সিনেমা পরিচালনা করেন টিভি পর্দার সাইফুল ইসলাম মান্ন। এ তালিকায় আরো যোগ করা যাবে অরুণ চৌধুরীর ‘আলতা বানু’, নূর ইমরান মিঠুর ‘কমলা রকেট’, অন্তু আজাদের ‘আহত ফলের গল্প’, মাসুম আজিজের ‘সনাতন গল্প’। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আলোচনায় চলে আসে রাশান নূরের ‘বেঙলি বিউটি’। কখনো দেশে অধিক প্রেক্ষাগহে মুক্তি, যুক্তরাষ্ট্রে আয়ের রেকর্ড ভঙ্গ কিংবা চীনে হাজারখানেক প্রেক্ষাগহে মুক্তি এসব সংবাদ দিয়ে আলোচনায় ছিল চলচ্চিত্রটি। কিন্তু বাস্তবে তার কোন ছিটেফোঁটারও দেখা মিলেনি। বছর শেষ দিকে ভালো কয়েকটি চলচ্চিত্রের দেখা মেলে। তার মধ্যে অন্যতম ছিল ফয়সাল রদ্দি ও আসিফ ইসলামের শিশুতোষ চলচ্চিত্র ‘পাঠশালা’, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোনের সাক্ষাৎকার নিয়ে পিপলু আর খানের ‘হাসিনা: অ্যা ডটার্স টেল’, তানিম রহমান অংশুর ভৌতিক-থিলার জনরার ‘স্বপ্নের ঘর’,। এ তালিকায় আরো রয়েছে ‘পোস্ট মাস্টার ৭১’, ‘অর্পিতা’। স্বপ্নের ঘরকে নির্মাণের দিক থেকে ভৌতিক জনরার সফল ছবি হিসেবে ধরা হচ্ছে কিন্তু প্রচারণা ও হল প্রাপ্তি অভাবের কারণে চলচ্চিত্রটি ব্যবসায়িকভাবে সফলতা লাভ করতে পারে নি।

সমালোচিত চলচ্চিত্রসমূহ:
সুপারহিরো জনরার ‘বিজলী’ দিয়ে ২০১৮ তে আলোচনায় আসে চিত্রনায়িকা ববি। এর আগে সুপারম্যান, মেশিনম্যানের মত শৈল্পিক সুপার কমেডি সুপারহিরো জনরার কাজ হয়েছে আমাদের ঢালিউডে কিন্তু ‘বিজলী’র মত ততটা টেকনিক্যালি সাউন্ড ছিল না সেগুলো। গল্পের দিক থেকে বিজলীর গল্প মোটামুটি মানের কিন্তু ভিজুয়্যাল ইফেক্টের দুর্বলতা মাঝে মাঝে চোখে পড়েছে। এ দূর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারলে বিজলীর সিক্যুয়াল নিয়ে ভালোকিছু আশা করা যেতে পারে। বছরের শেষ দিকে মুক্তি পায় খিজির হায়াত খান অভিনীত ‘মিস্টার বাংলাদেশ’। জঙ্গিবাদ নিয়ে নির্মিত হলেও নির্মাণ এবং অভিনয়ের অদক্ষতার কারণে চলচ্চিত্রটি হয়েছে ব্যাপক সমালোচিত। এছাড়া রাজনৈতিক গল্পের ‘লিডার’ ছবি দিয়ে পরিচালনায় অভিষেক হয় দিলশাদুল হক শিমুলের। চিত্রনায়ক বাপ্পি চৌধুরী অভিনীত চলচ্চিত্র ‘নায়ক’ আলোচিত ও প্রশংসিত হয়েছে। বাপ্পির বিপরীতে ছিল মাহিয়া মাহি। জাজের বাইরে মাহিয়া মাহির চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার অনেকটাই ফিকে হয়ে গেছে। অ্যাকশন গার্ল খ্যাত এ অভিনেত্রীর এ বছরে বলার মত ছবি আছে একটি, নাম ‘জান্নাত’। ‘জান্নাত’ এ মাহির বিপরীতে ছিলে সাইমন সাদিক। ‘পোড়ামন’ খ্যাত এ জুটিকে নিয়ে ‘জান্নাত’ নির্মাণ করেন ‘দুই নয়নের আলো’ খ্যাত পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান মানিক। চলচ্চিত্রের থিম ভালো হলেও ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ হয়।

বছর শেষে শাকিব-শুভ:
২০১৬, ২০১৭ তে টক অফ দ্য টাউনে থাকা আরিফিন শুভ ছিলেন এ বছর পুরোপুরি ফ্লপের কাতারে। দুটি ছবি মুক্তি পেয়েছে তাঁর। জাকির হোসেন রাজু পরিচালিত ‘ভালো থেকো’ ও নায়ক আলমগীর পরিচালিত ‘একটি সিনেমার গল্প’। দুটি ছবিই ব্যবসায়িকভাবে ব্যর্থ। ‘ঢাকা অ্যাটাক’ কিংবা ‘মুসাফির’-এর মত চলচ্চিত্র উপহার দেবার পর তাঁর এমন হঠকারি চলচ্চিত্র সিলেকশন নিয়ে কথা তুলেছেন সমালোচকরা। অনেকে মনে করছেন তিনিও কি শাকিব খানের পথ অনুসরণ করেছেন কি? কোয়ালিটি বিচার না করেই কি চলচ্চিত্রের গড্ডালিকা প্রবাহে নাম লেখাচ্ছেন তিনি? শাকিব খানের কথা যখন এসেই গেলো তাহলে কথা বলা যাক তাকে নিয়ে, কেমন ছিল শাকিব খানের ২০১৮? গত বছর শাকিব খানের ছবি মুক্তি পেয়েছে আটটি। একক সংখ্যার হিসাবে তিনিই এগিয়ে আছেন। ঢালিউডে গত এক দশকের বেশি সময় ধরে নাম্বার ওয়ান পজিশন ধরে রেখেছেন শাকিব খান। তাই তাঁর চলচ্চিত্র বেশি মুক্তি পাবে এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু ব্যবসা সফল চলচ্চিত্র তিনি দিতে ব্যর্থ হয়েছেন এ বছর। এ ���ছর শাকিব অভিনীত চলচ্চিত্রের মধ্যে রয়েছে, আশিকর রহমানের ‘সুপার হিরো’, ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘ক্যাপ্টেন খান’। ‘ক্যাপ্টেন খান’ আলোচনায় ছিল, তবে তা ছিল তামিল সিনেমা ‘আঞ্জানের’ নকল। এছাড়া আশিকুর রহমানের ‘সুপার হিরোর’ অবস্থা ছিল ‘যত গর্জে যত বর্ষে না’- প্রবাদের মত। আবদুল মান্নানের ‘পাংকু জামাই’, উত্তম আকাশের ‘আমি নেতা হবো’ এর মত দূর্বল স্ক্রিপ্ট ও বিরক্তিকর সংলাপের চলচ্চিত্রে তিনি গা ভাসিয়েছেন এবারো। বাকি চলচ্চিত্রগুলো ছিল যৌথ প্রযোজনা কিংবা ওপার বাংলার একক প্রযোজনার চলচ্চিত্র। শুধুমাত্র নতুন লুক, আর বেশি বেশি নতুন লুকের আলোচনা দিয়ে যে নাম্বার ওয়ান নায়কের চলচ্চিত্র ঢালিউডে হিট হতে পারে না সেটা আবারো প্রমাণিত হল। যুগের সাথে তাল মিলিয়ে শাকিব খানের উচিত চলচ্চিত্রের গল্প বাছাই ও নিজের ফিটনেসের প্রতি আরো সচেতন হওয়া।

মুখ থুবড়ে পড়া চলচ্চিত্রসমূহ:
‘মাতাল’, ‘মনে রেখো’, ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’, পবিত্র ভালোবাসা’, মো শাখাওয়াত হোসেনের ‘আসমানী’, শানুর ‘পলকে পলকে তোমাকে চাই’ চলচ্চিত্রগুলো বক্স অফিসে চরমভাবে ব্যর্থ হয়েছে। এসব চলচ্চিত্রগুলোতে অভিনয় করেছেন বাপ্পি, সাইমন সাদিক ও মাহিয়া মাহির মত অভিনয় শিল্পীরা। সে হিসাবে বলা যায় ২০১৮ তে তাদের ব্যর্থতার পাল্লা ভারী। এছাড়ার কিছু হাস্যকর চলচ্চিত্রের কথা বলতে গেল চলে আসবে বেশ কয়েকটি নাম যার মধ্যে ‘প্রেমের কেনো ফাঁসি’, ‘রাঙা মন’, ‘প্রেমিক ছেলে’, ‘ধূসর কুয়াশা’, ‘পাগল মানুষ’, ‘ফিফটি ফিফটি লাভ’ অন্যতম।

যৌথ প্রযোজনা ও আমদানী চলচ্চিত্র:
চলতি বছরে নতুন নিয়মের কারণে যৌথ প্রযোজনার তেমন কোনো ছবি নির্মিত হয়নি। যা হয়েছে তা সংখ্যা অপ্রতুল। এ জন্যই ছবির সংখ্যা কম বলে মন্তব্য অনেকের। তবে যৌথ প্রযোজনা ও সাফটা চুক্তির আওতায় টালিউডের বেশ কটি ছবি মুক্তি পেয়েছে দেশের হলে। এগুলো হলো ‘ইন্সপেক্টর নটি কে’, ‘মনে রেখো’, ‘নূর জাহান’, ‘তুই শুধু আমার’, ‘সুলতান : দ্য সেভিয়ার’, ‘আমি শুধু তোর হলাম’, ‘ফিদা’, ‘পিয়া রে’, ‘জিও পাগলা’, ‘গার্লফ্রেন্ড’, ‘চালবাজ’ ও ‘ভাইজান এলো রে’। এর মধ্যে শুধু ‘ভাইজান এলো রে’ ছবিটিই দর্শকরা গ্রহণ করেছে এবং ‘সুলতান’ প্রেক্ষাগৃহে মোটামুটি চলেছে।

চলচ্চিত্রের সাথে সম্পৃক্ত যাদের হারিয়েছি:
২০১৮ সালে এসে আমরা হারিয়েছি চলচ্চিত্রের কিংবদন্তি কয়েকজন ব্যক্তি। তার মধ্যে অন্যতম হলেন, আমজাদ হোসেন, চিত্রগ্রাহক আনোয়ার হোসেন, চিত্রসম্পাদক সাইদুল আনাম টুটুল, শক্তিমান পার্শ্ব অভিনেতা সিরাজ, জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার জয়ী সঙ্গীতশিল্পী শাম্মী আখতার দীর্ঘদিন ক্যান্সারে ভুগে ১৬ জানুয়ারি মারা যান। নন্দিত গীতিকার ও চিত্রনাট্যকার কাজী আজিজ আহমেদ মারা যান ৩০শে জানুয়ারি। বছরের মাঝামাঝি সময়ে ৭ জুলাই মারা যান প্রবীণ অভিনেত্রী রানী সরকার। ১৮ই অক্টোবর মৃত্যুবরণ করেন আইয়ুব বাচ্চু। জনপ্রিয় ব্যান্ড শিল্পী হিসেবে পরিচিত হলেও কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে তার কণ্ঠ শোনা যায়। তাঁর কণ্ঠে ‘আম্মাজান’, অনন্ত প্রেম গানগুলো বাংলা চলচ্চিত্রের বহুল জনপ্রিয়।

img_1663 Sopnojal kingdom-of-clay-subjects-movie-poster.jpg images shopner_ghor.jpg

সমালোচকদের দৃষ্টিতে সেরা পাঁচ বাংলা চলচ্চিত্র:
গণমাধ্যম এবং বিভিন্ন অনলাইন চলচ্চিত্র সমালোকদের আলোচনার ভিত্তিতে এ বছরের সেরা পাঁচ চলচ্চিত্র হল: মাটির প্রজার দেশে, দেবী, স্বপ্নজাল, পোড়ামন-২ এবং স্বপ্নের ঘর।
নানা প্রতিকূলতা- প্রতিবন্ধকতা সত্ত্বেও ২০১৮ বাংলা চলচ্চিত্রের জন্য একটি ভালো সময় বলা যায়। সংখ্যার দিক থেকে কম চলচ্চিত্র পেলেও ভালো গল্পের চলচ্চিত্রের পরিমাণ বেড়েছে। আগে যেখানে দক্ষিণের চলচ্চিত্র নকল করে কিংবা অনেকগুলো গল্প খিচুড়ি করে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করা হত, সে ধরণের চলচ্চিত্রের সংখ্যা কমে এসেছে। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানগুলো এবং ইন্ডিপেনডেন্ট ফিল্মমেকাররা এগিয়ে আসছেন মৌলিক চলচ্চিত্র নির্মাণে। সিনেমার প্রচারণাতেও এসেছে ভিন্নধারা। ডিজিটাল প্রচারণার সাথে সাথে মাঠ পর্যায়েও দেখা গেছে প্রচারণা। যদিও বেশীরভাগ প্রচারণা হয়েছে ঢাকা কেন্দ্রিক, কিন্তু আমরা আশা করতেই পারি এভাবে ধীরে ধীরে সারা বাংলাদেশে চলচ্চিত্রের প্রচার শুরু হবে। ২০১৯ সালে এ শুভকামনা আমরা করতেই পারি।

লিথেছেন: আবদুল্লাহ্ আল মানী