বড়পর্দায় ‘কালো মেঘের ভেলা’

বড় পর্দায় মুক্তি পেল মৃত্তিকা গুণ পরিচালিত প্রথম চলচ্চিত্র ‘কালো মেঘের ভেলা’। সরকারি অনুদানে নির্মিত ও ইমপ্রেস টেলিফিল্ম প্রযোজিত এ শিশুতোষ চলচ্চিত্রটি মুক্তি পাচ্ছে ইমপ্রেস টেলিফিল্ম-এর পরিবেশনায়। স্বল্পদৈর্ঘ্য হিসেবে সরকারি অনুদান পেলেও চলচ্চিত্রটি পূর্ণদৈর্ঘ্য হিসেবে নির্মিত হয়েছে। চলচ্চিত্রটি নির্মিত হয়েছে নির্মলেন্দু গুণের কালো মেঘের ভেলা উপন্যাস অবলম্বনে। এ চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য লিখেছেন ফারুক হোসেন ও মৃত্তিকা গুণ। ছবির প্রধান দুটি চরিত্র দুখু ও রোজীর চরিত্রে অভিনয় করেছেন রুনা খান ও আপন। সিনেমার জন্য নতুন করে একটি গান লিখেছেন নির্মলেন্দু গুণ। গানের কথাগুলো এমন: ‘ইস্টিশনে জন্ম আমার রেলগাড়িতে ঘর, রেলের চাকায় বান্ধা আমার লোহারই অন্তর’।

আজ ২৬ জুলাই শুক্রবার রাজধানীর বসুন্ধরা স্টার সিনেপ্লেক্স ও যমুনা ব্লকবাস্টারে ছবিটি মুক্তি পায়। ছবিটি সম্পর্কে মৃত্তিকা বলেন, ছোটবেলা থেকেই বাবার লেখা প্রিয় উপন্যাসের একটি ‘কালো মেঘের ভেলা’। ক্লাস সিক্সে প্রথমবার বইটার সঙ্গে পরিচয়। পড়তে পড়তে নিজেও হারিয়ে যান কল্পনার রাজ্যে।

উপন্যাসের কেন্দ্রীয় চরিত্র দুখু মিয়া দাগ কাটে তার মনে। সেই থেকেই মাথায় গেঁথে যায় গল্পটি। তখনই ভেবেছিলেন, এটি নিয়ে কাজ করার। সেই সুযোগ এলো ২০১৫ সালে। সরকারি অনুদান পাওয়ার পর সময় নিয়ে শিল্পী নির্বাচন ও শুটিংয়ের কাজ করলেন মৃত্তিকা। স্বল্পদৈর্ঘ্য হিসেবে অনুদান পাওয়া এই ছবিটি এরইমধ্যে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে দেখানো হয়েছে।

২০১৫ সালে মৃত্তিকা যখন চলচ্চিত্র নির্মাণ করবেন বলে ঠিক করেন, তখনই বেছে নিয়েছিলেন উপন্যাসটি। আর নিজের উপন্যাস অবলম্বনে এ ছবির জন্য সে সময় মেয়ের কাছ থেকে পাঁচ হাজার টাকা সম্মানী পেয়েছিলেন বাবা নির্মলেন্দু গুণ।

উপন্যাসটি শিশুতোষ হলেও একে শিশুতোষ চলচ্চিত্র বানাতে চাননি মৃত্তিকা। এখানে তিনি দেখাতে চেয়েছেন একজন কিশোরের জীবনসংগ্রামের গল্প, জীবনের নানা ঘাত-প্রতিঘাতে কিশোরবেলাতেই যে বয়স্ক হয়ে ওঠে।
ছোটদের মনস্তাত্বিক বিষয় নিয়ে ছবি করলেও নির্মাতা মনে করছেন, ‘কালো মেঘের ভেলা’ ছবিটি শুধু ছোটদের নয়, এটি প্রাপ্তমনস্কদেরও ছবি। স্কুল পড়ুয়া শিক্ষার্থীরা টার্গেট দর্শক থাকলেও ছবিটির খবর সব শ্রেণির মানুষের কাছে পৌঁছাতে চান মৃত্তিকা।

ছবিটি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করে মৃত্তিকা বলেন, আমি আশাবাদী, যারা সিনেমাটি দেখবেন তাদের থেকে প্রতিক্রিয়াও ভালো আসবে। কারণ ছবিটি আমি বেশ যত্ন নিয়ে নির্মাণ করেছি। রিয়েল স্পটে গিয়ে শুট করেছি। মূল গল্পে যে বারহাট্টার একশো বছরের পুরনো জঙ্গলের কথা উল্লেখ আছে সেখানে গিয়েই শুট করেছি।
২০১৬-তে স্বল্পদৈর্ঘ্য শাখায় সরকারি অনুদান পাওয়ার পর মৃত্তিকা ছবির কাজ শুরু করেন। শুটিং হয় বারহাট্টার কাশবনে নির্মলেন্দু গুণের বাড়ি, কমলাপুর রেলস্টেশনসহ আরও কয়েকটি জায়গায়।
প্রথমে ৫৫ মিনিটের স্বল্পদৈর্ঘ্য ছবির শুটিং করার পর আত্মবিশ্বাসী পরিচালক এর দৈর্ঘ্য বাড়িয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র হিসেবে এটি শুটিং করেন। ছবি নিয়ে মৃত্তিকা বলেন, ‘এখানে একজন বাচ্চার চোখ দিয়ে পৃথিবীকে দেখার চেষ্টা করা হয়েছে। আসলে আমাদের সবার ভেতরেই একাকিত্ব আছে। সেই একাকিত্বের প্রকাশ আছে এ সিনেমায়। ছবিটি দর্শকের মধ্যে একটা ঘোর তৈরি করবে বলে আমার বিশ্বাস।’

‘কালো মেঘের ভেলা’ সিনেমার কেন্দ্রীয় দুটি চরিত্র মা ও ছেলে। এতে মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন দেশের জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খান। ছেলের চরিত্রে দেখা যাবে আপনকে।
ছবির বেশিরভাগ অংশের শুটিং হয়েছে কবির গ্রাম বারহাট্টায়। এছাড়া কমলাপুর, পুবাইল, তেজগাঁও বস্তিতেও শুটিং সম্পন্ন করেছেন মৃত্তিকা গুণ।

ছবি প্রসঙ্গে রুনা বলেন, ‘উপন্যাসটি তো প্রায় সবাই পড়েছেন। চমৎকার একটি গল্প এখানে রয়েছে। এখানে মা ও ছেলের চরিত্র দুটি মনে দাগ কাটার মতো। আমি আনন্দিত প্রিয় কবির উপন্যাসের চরিত্রে অভিনয় করতে পেরে। দর্শকরা ছবিটি উপভোগ করবেন।’
পরিচালক মৃত্তিকা জানান, স্বল্পদৈর্ঘ্যের জন্য অনুদান পেলেও গল্পটিকে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্রে রূপ দিয়েছেন তিনি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্র উৎসবে সিনেমাটি দেখানো হয়েছে। কলকাতা ইন্টারন্যাশনাল কাল্ট ফিল্ম ফেস্টিভালে সেরা শিশু চলচ্চিত্র বিভাগে সিনেমাটি পুরস্কৃতও হয়েছে।
এ সিনেমার গল্পে দেখা যাবে ঢাকার রেল স্টেশনের এক পথশিশুর সংগ্রামী জীবন। তার মধ্যেও আছে শৈশব-কৈশোরে থাকা প্রতিটি শিশুর ফ্যান্টাসি প্রবণ মন। এরকম ফ্যান্টাসি থেকেই একদিন হঠাৎ সে ট্রেনে উঠে নিরুদ্দেশের পথে যাত্রা করে। হাজির হয় একটি গ্রামে। সেখানে কাজের সন্ধান করে।
যথারীতি নানা বাধা, প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হয়। শিশুটির সঙ্গে তার মায়ের গভীর সম্পর্কের বিষয়টিও উঠে এসেছে এ চলচ্চিত্রে।


তথ্যসূত্র: অন্য আলো, উইকিপিডিয়া, চ্যানেল আই অনলাইন