বায়োপিক ‘গহীনের গান’ নিয়ে শিল্পী আসিফ আকবরের আবেগঘন মূল্যায়ন

“গহীনের গান সিনেমাটির প্রচারে ছিলাম টানা একমাস। কথা ছিল টিমের সবাই একসাথে ক্যাম্পেইনে যাব। দুই তিন দিন যাওয়ার পর উইকেট পতন শুরু হলো।আমি জানি সময় মেইনটেইন করে এসব জার্নি অনেক ঝক্কির। আমার স্পোর্টস ব্যাকগ্রাউন্ড তাই অভিজ্ঞতার আলোকে দীর্ঘ সফরের প্ল্যান করেছি।ক্যারিয়ারের শুরুতে যখন প্রচুর শো করতাম তখনই দেখেছি আমার রানিংমেটরা বেশীদিন এনার্জী নিয়ে সফরে যেতে পারছেনা। নানারকম অজুহাতে তারা সফরে যেতে চাইতোনা।সিনেমার প্রচারে একপর্যায়ে সবাই রণে ভঙ্গ দিলেও আমি শেষ পর্যন্ত ছিলাম। শেষ দেখতে চাওয়ার একটা তাড়না সবসময় আমার মধ্যে কাজ করে।

ঢাকা এবং ঢাকার বাইরে সিনেমা হলগুলোর অবস্থা জানারও আগ্রহ ছিল প্রচন্ড।হাতে গোনা কিছু হল ছাড়া অধিকাংশ হলে গিয়েই হতাশ হয়েছি। সিনেপ্লেক্স কিংবা সেনানিবাসের হলগুলোর বাইরে কোন হল আপ টু দ্যা মার্ক পাইনি যেখানে ফ্যামিলিসহ মুভি দেখার পরিবেশ আছে। হলগুলোর উপর থেকে নীচের থার্ডক্লাস পর্যন্ত অপরিস্কার এবং দুর্গন্ধযুক্ত পুতিময়।ভাল ওয়াশ রুমের ব্যবস্থা নেই। মহিলা শিশুদের হলে টিকে থাকার কোন পরিবেশ নেই। চেয়ার টুলের কোন স্ট্যান্ডার্ড নেই।খরচ বাঁচাতে কিংবা সিন্ডিকেটের খপ্পর থেকে বাঁচতে প্রায় সব হলেই পেন ড্রাইভ দিয়ে শো চালায়। এতে করে ছবির কালার এবং সাউন্ডের কোন কোয়ালিটিই থাকেনা।সত্যি বলতে মানুষ হলে কেন যাবে সেটার কোন ব্যাখ্যা খুঁজে পাইনি।

ঈদের সময় হয়তো দুএকটি বানিজ্যিক ছবি সফল হয়। পেপারে দেখি একশোর উপর হলে মুক্তি পেয়েছে অমুক ছবি, বেশী হল পাওয়া মানেই সিনেমাটার খবর ভাল। আমার পর্যবেক্ষনে এটা একটা স্টান্টবাজী। প্রধান জেলা শহরগুলোতে হল নেই, থাকলেও অবস্থা তথৈবচ।সিনেপ্লেক্সের প্রবেশমূল্য আর মফস্বলে হলের পরিবেশে আমি নিশ্চিত হয়ে গেছি একটি বিশেষ শ্রেনীর দর্শক এখনো হলগুলো টিকিয়ে রেখেছেন।সিনেপ্লেক্সের জন্য বিদেশী ছবি আর লোকাল হলগুলোর জন্য সাকিবের ছবি। কাউকে ছোট করছিনা, আমার মনে হয়েছে শুধুমাত্র সাকিব খানের জন্যই এদেশে এখনো সিনেমা ব্যবসা টিকে আছে, কতদিন থাকবে সেই ব্যাপারে অবশ্য নিশ্চিত না। শুধু বলবো বাংলাদেশের সিনেমার ভবিষ্যৎ চোরাবালিতে ক্রমশই ডুবছে, প্রায় ডুবেই গেছে। জীবনের টানাপোড়েনের হিসেবে যাদের একমাত্র বিনোদন সিনেমা, সেই মধ্যবিত্তই এখন হলবিমুখ। সিনেমা শিল্পে জরুরী অবস্থা ঘোষনা করা উচিত। যারা জেনুইন সিনেমার মানুষ তাদের হাতে সিনেমার ভবিষ্যৎ ছেড়ে দেয়া এখন সময়ের দাবী, অন্যথায় শত চেষ্টায়ও এই ভয়াবহ কোমা থেকে সিনেমাকে বাঁচানো অসম্ভব…

ভালবাসা অবিরাম …”

প্রসঙ্গতঃ বিগত ২০ ডিসেম্বর সারাদেশে মুক্তি পায় কথাসাহিত্যিক সাদাত হোসাইন এর কাহিনি, চিত্রনাট্য, সংলাপ রচনা ও পরিচালনায় চলচ্চিত্র ‘গহীনের গান’। বাংলাঢোলের প্রযোজনায় পৌনে দুই ঘন্টা ব্যপ্তির সঙ্গীতধর্মী চলচ্চিত্রটির একটি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে অভিনয় করেছেন সংগীতশিল্পী আসিফ আকবর। এছাড়াও সৈয়দ হাসান ইমাম, তমা মির্জা, তানজিকা আমিন, আমান রেজা, কাজী আসিফ প্রমুখ বিভিন্ন প্বার্শ চরিত্র রূপায়ণ করেছেন।

‘গহীনের গান’- বাংলাদেশে নির্মিত প্রথম সঙ্গীতধর্মী পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র, আসিফ আকবরের প্রথম অভিনীত চলচ্চিত্র ছোট পর্দার অভিনেত্রী তুলনা আল হারুনের প্রথম চলচ্চিত্র, সাদাত হোসাইনের প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র পরিচালনা এবং বাংলাঢোল প্রতিষ্ঠানটির প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য প্রযোজনা।

১-৩ আগস্ট, ২০১৮ হতে আশুলিয়ার মমতাপল্লী ও ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ হতে মোহাম্মদপুরে চলচ্চিত্রটির প্রথম ভাগের চিত্র গ্রহণ করা হয়। প্রথম ভাগে আসিফ আকবর ও তানজিকা আমীনের অভিনীত চিত্র ধারণের কাজ করা হয়। এসময় ৬টি গানের চিত্রায়ণ করা হয়। বসিলায় চিত্রগ্রহণ করতে যাওয়ার সময় তানজিকা, আসিফ, সাদাত ও বিদ্রোহী দীপন সড়ক দুর্ঘটনার কবলে পড়েছিলেন।

অভিনয় করেছেন আসিফ আকবরসৈয়দ হাসান ইমাম, তানজিকা আমিন, আমান রেজা, কাজী আসিফ রহমান, তমা মির্জা, তুলনা আল হারুন, আরশ (শিশু শিল্পী) , মুগ্ধতা (শিশু শিল্পী)। পরিচালক সাদাত হোসাইন একসাথে সকল অভিনয় শিল্পীদের মনোনীত করা বা চুক্তিবদ্ধ করেননি। প্রথম পর্যায়ে মুখ্য চরিত্রে আসিফ আকবর ও তানজিকা হাসানকে অভিনয়ের জন্য নির্বাচন করেন। দ্বিতীয় পর্যায়ে ০৪ অক্টোবর, ২০১৮-তে তমা মির্জা ও আমান রেজাকে চুক্তিবদ্ধ করেন। গহীনের গান চলচ্চিত্রের চিত্রগ্রহণ ও সম্পাদনা যথাক্রমে করেছেন বিদ্রোহী দীপন ও লিয়ন রোজারিও। প্রধান সহকারী পরিচালনা করেছেন মিনহাজ রহমান পিয়াস ও হৃদয় চৌধুরী এছাড়াও সহকারী পরিচালনায় আরো ছিলেন গোলাম রাব্বানীজিকু বড়ুয়াসাজ্জাদ হোসেন, প্লাবন হাসান ও সোহরাব মুন্সী। শব্দ সম্পাদনা করেছেন সাকিরুজ্জামান পাপ্পু। মেহাদী হাসান অর্ণব শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন। পোষাক পরিকল্পনা করেছেন জান্নাত মৌরী।

গহীনের গান একটি সঙ্গীত নির্ভর চলচ্চিত্র। চিত্রনাট্য অনুযায়ী ৯টি গান এই চলচ্চিত্রে ব্যবহার করা হয়েছে। তরুন মুন্সীর সুর ও সঙ্গীত পরিচালনায় ৬টি গানের গীতি লিখেছেন তরুন মুন্সী নিজেই। ২টি গানের গীতি রচনা করেছেন রাজীব আহমেদ। ১টি গানের গীতিকার ছিলেন এই চলচ্চিত্রের পরিচালক সাদাত হোসাইন। গানগুলির মধ্যে ‘বন্ধু তোর খবর কি রে’ গানটির সুর করেছেন পল্লব স্যানাল ও সংগীত পরিচালনা করেছেন পার্থ মজুমদার। সবগুলি গান এককভাবে আসিফ আকবরের কন্ঠে ধারণ করা হয়। এছাড়াও পৃথকভাবে আবহ সঙ্গীত আয়োজন করেছেন রেজাউল করিম লিমন।