চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রোডাকশন ডিজাইনার ও শিল্প নির্দেশক মহিউদ্দীন ফারুকের জীবনাবসান

বিশিষ্ট চলচ্চিত্র পরিচালক, প্রোডাকশন ডিজাইনার ও শিল্প নির্দেশক মহিউদ্দীন ফারুক আজ দুপুরে ইন্তেকাল করেছেন। ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাহি রাজিউন।

মহিউদ্দিন ফারুক ১৯৪১ সালের ৩রা মার্চ মুন্সিগঞ্জ জেলার গজারিয়া থানার আড়ালিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা আয়েত আলী সরকার ও মা দুধমেহের খানম। বাবা ছিলেন স্কুল শিক্ষক। ২ ভাই ১ বোনের মধ্যে তিনি সবার ছোট।

নিজ গ্রামের আড়ালিয়া প্রাইমারি স্কুলে তার লেখাপড়ায় হাতে খড়ি। বিভিন্ন স্কুল পেরিয়ে ১৯৫৮ সালে ঢাকার ‘মুসলিম হাই স্কুল’ থেকে ম্যাট্রিক পাশ করেন তিনি। এরপর জগন্নাথ কলেজ থেকে ১৯৬০ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাশ করে তৎকালীন ঢাকা আর্ট কলেজে ভর্তি হন।
ছোটবেলা থেকেই খেলাধুলা, অভিনয়, ছবি আঁকা এসবের প্রতি ঝোঁক ছিল তাঁর।
বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াকালীন মঞ্চনাটকের দল ‘থিয়েটার’ এর সাথে যুক্ত হন তিনি। যুক্ত ছিলেন প্রগতিশীল রাজনীতির সাথেও।
বিশ্ববিদ্যালয় পাসের আগেই সুইডেন-পাকিস্তান ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার প্রজেক্টে চাকরি পেয়ে যান তিনি। ১৯৬৫ সালে চারুকলার পড়ালেখা শেষ করে ১৯৬৭ সালে তৎকালিন পাকিস্তান টেলিভিশনে যোগদান করেন। ২০০০ সাল পর্যন্ত এই প্রতিষ্ঠানেই যুক্ত ছিলেন মহিউদ্দিন ফারুক।
তবে চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশনার জন্য সবচেয়ে বেশি সুনাম অর্জন করেন তিনি। উদয়ন চৌধুরীর ‘পুনম কি রাত’ ছবিতে শিল্প নির্দেশক হিসেবে তার চলচ্চিত্র জগতে যাত্রা শুরু। এরপর তিনি প্রায় ২০০ চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশনা দিয়েছেন।

তিনি মোট ৭ বার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৭৭ সালে বসুন্ধরা চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশনার জন্য প্রথমবার জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন। এর পর ১৯৭৮ সালে ডুমুরের ফুল, ১৯৯১ সালে পিতা মাতা সন্তান, ১৯৯৩ সালে পদ্মা নদীর মাঝি, ১৯৯৭ সালে দুখাই, ২০০১ সালে মেঘলা আকাশ এবং ২০১০ সালে অবুঝ বৌ চলচ্চিত্রে শিল্প নির্দেশনার জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান। তাঁর শিল্প নিদের্শনায় অন্যান্য উল্লেখযোগ্য সিনেমাগুলো হল, পায়ে চলার পথ (১৯৭৩), মাসুদ রানা (১৯৭৪), লাঠিয়াল (১৯৭৫), সারেং বৌ (১৯৭৮), সূর্যদীঘল বাড়ি (১৯৭৯), নাজমা (১৯৮৩), সুরুজ মিয়া (১৯৮৪), সারেন্ডার (১৯৮৭), লালু মাস্তান (১৯৮৭), ভাইজান (১৯৮৯), কালিয়া (১৯৯৪), শিল্পী (১৯৯৫), বিচার হবে (১৯৯৬), ঘটনা সামান্য (১৯৯৭), ইতিহাস (২০০২), চার সতীনের ঘর (২০০৫), দূরত্ব (২০০৬) ও মনের মানুষ (২০১০)।


জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার ছাড়াও বাচসাস পুরস্কার, প্রযোজক সমিতি পুরস্কারসহ নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হন তিনি।

শিল্প নির্দেশনার বাইরে ‘বিরাজ বৌ’ চলচ্চিত্র নির্মাণ করে পরিচালক হিসেবেও সুনাম অর্জন করেন।

ব্যক্তিগত জীবনে ১৯৬৫ সালে তিনি ফাতেমা আক্তার বানুকে বিয়ে করেন। তাঁদের ১ মেয়ে ও ২ ছেলে।

তিনি স্ট্যামফোর্ড ইউনিভার্সিটির ফিল্ম এন্ড মিডিয়া ডিপার্টমেন্টের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের একজন শিক্ষক ছিলেন।