বলিউডে আবার বড় ধাক্কা। বিদায় নিলেন ঋষি কাপুর

একদিনের ব্যবধানে বলিউডে আবার বড় ধাক্কা। আজ সকালে বিদায় নিলেন বলিউডের প্রবীণ অভিনেতা ঋষি কাপুর। ৬৭ বছরের ঋষি ক্যানসারে ভুগছিলেন। বলিউডের আরেক বরেণ্য অভিনেতা অমিতাভ বচ্চন টুইটে ঋষি কাপুরের প্রয়াণের খবর নিশ্চিত করেন।

জানাগেছে, গতকাল হঠাৎ করে বেশি অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে মুম্বাইয়ের স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী নীতু কাপুর। রাতে ভাই রণধীর কাপুর জানিয়েছিলেন, ঋষি ভালো নেই। শ্বাসকষ্টে ভুগছেন। তবে তিনি ঋষি লাইফ সাপোর্টে যেতে নারাজ ছিলেন। চিকিৎসা চলছিল। তবে সকালেই সব শেষ, শেষবার মুম্বাইয়ের বাতাসে নিশ্বাস ছাড়লেন তিনি।

স্ত্রী নীতু সিংয়ের সঙ্গেও ঋষি কাপুর ১২টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন।

২০১৮ সালে ঋষি কাপুরের ক্যানসার ধরা পড়ে, ১ বছরের বেশি সময় আমেরিকার নিউইয়র্কে চিকিৎসা হয়। চিকিৎসা শেষে ভারতে ফেরার পর ফেব্রুয়ারিতে ফের তাঁকে ২ বার হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়। পারিবারিক একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিতে দিল্লি গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন, তখন সেখানেই হাসপাতালে ভর্তি করা হয় তাঁকে। ঋষি কাপুরকে শেষ দেখা গিয়েছে ইমরান হাসমির বডি ছবিতে, ডিসেম্বরে মুক্তি পেয়েছে ছবিটি। এরপর তাঁকে দেখা যাবে দ্য ইনটার্ন-এর হিন্দি রিমেকে দীপিকা পাড়ুকোনের সঙ্গে। নিউ ইয়র্ক থেকে ফেরার পর শর্মাজি নমকিন নামে একটি ছবিতে জুহি চাওলার সঙ্গে শ্যুটিং শুরু করেন কিন্তু তাঁর অসুস্থতার কারণে শ্যুটিং বাতিল করা হয়।

গতকাল  বুধবারই ঋষি কাপুরকে মুম্বইয়ের স্যার এইচ এন রিলায়েন্স ফাউন্ডেশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অভিনেতাকে রাখা হয়েছিল আইসিসিইউতে।  অভিনেতার সঙ্গে হাসপাতালে ছিলেন স্ত্রী নীতু কাপুর। 

বলিউড অভিনেতার জন্ম ফিল্মি পরিবারেই। বাবা ছিলেন প্রবাদপ্রতিম রাজ কাপুর। স্ত্রী বলিউডে তাঁর বহু ছবির নায়িকা নিতু সিং। পুত্র এখনকার বলিউড তারকা রণবীর কাপুর। কাপুর পরিবারের ধারাবাহিকতায় শিশু বয়সেই ঋষি কাপুর অভিনয় শুরু করেছিলেন।

গত ফ্রেব্রুয়ারি মাসেও ঋষি কাপুর দিল্লিতে বোনের ছেলের বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে সেই সময় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা  হয়েছিল। পরে সুস্থ হয়ে উঠেছিলেন। অবশ্য ঋষি অনেকদিন ধরেই ক্যানসারে আক্রান্ত ছিলেন। ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বর মাস থেকে তিনি নিউ ইয়র্কে ক্যানসারের চিকিৎসা নিয়েছিলেন । ২০১৯-এর সেপ্টেম্বর মাসে তিনি স্ত্রী নীতু কাপুরের সঙ্গে সুস্থ হয়ে দেশে ফিরে এসেছিলেন। তবে এরপর থেকে মাঝেমাঝেই অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন বলে পরিবার সুত্রে জানা গিয়েছে।

পিতা রাজ কাপুরের ’মেরা নাম জোকার ’ ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে প্রথম অভিনয় করে ঋষি কাপুর জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুবই সক্রিয় ঋষি কাপুরকে গত ২ এপ্রিলের পর আর কোনও পোস্ট করতে দেখা যায় নি। কাপুর পরিবারের ধারাবাহিকতায় শিশু বয়সেই ঋষি কাপুর অভিনয় শুরু করেছিলেন। পিতা রাজ কাপুরের ’মেরা নাম জোকার ’ ছবিতে শিশু শিল্পী হিসেবে প্রথম অভিনয় করে ঋষি কাপুর জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। পিতার আরও একটি চলচ্চিত্রে শিশু শিল্পী হিসেবে তাঁকে দেখা গিয়েছিল। তিনি ছিলেন একাধারে অভিনেতা পরিচালক ও প্রযোজকও। ১৯৫২ সালের ৪ সেপ্টেম্বর মুম্বাইতে জন্ম ঋষির। ১৯৭৩ সালে ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে ’ববি’ ছবিতে প্রথম তিনি নিয়মিত বলিউডের চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন। স্ত্রী নীতু সিংয়ের সঙ্গেও ঋষি কাপুর ১২টি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। ১৯৭০ সাল থেকে ২০২০ পর্যন্ত টানা তিনি অভিনয় করে গিয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে নায়ক হিসেবে তিনি ৫১টি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ‘হাম কিসিসে কম নাহি’, ’অমর আকবর অ্যান্টনি’,সহ অসংখ্য চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। পরবর্তী সময়ে অবশ্য তিনি পার্শ্ব চরিত্রেই বেশি অভিনয় করেছেন। অভিনয়ের জন্য তিনি একাধিকবার ফিল্ম ফেয়ার অ্যাওয়ার্ডসহ অসংখ্য পুরস্কারে সম্মানিত হয়েছিলেন।

ইরফানের মতোই ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিলেন তিনি। দু’বছর আমেরিকার নিউ ইয়র্কে চিকিৎসা চালানোর পর তিনি গত সেপ্টেম্বরে ভারতে ফিরেছিলেন। সুস্থ ছিলেন। করোনার বিরুদ্ধে যুদ্ধে তিনি গত ২ এপ্রিল মুম্বাইয়ে একটি অনুষ্ঠানে মানুষের মনে সাহসও জুগিয়েছিলেন। কেউ তখন ভাবেনি যে মাস ফুরোবার আগেই ইতিহাস হয়ে যাবেন ঋষি।

১৯৭৩ সালে ডিম্পল কাপাডিয়ার সঙ্গে ’ববি’ ছবিতে প্রথম তিনি নিয়মিত বলিউডের চলচ্চিত্রে অভিনয় শুরু করেছিলেন

বলিউড অভিনেতার জন্ম ফিল্মি পরিবারেই। বাবা ছিলেন প্রবাদপ্রতিম রাজ কাপুর। স্ত্রী বলিউডে তাঁর বহু ছবির নায়িকা নিতু সিং। পুত্র এখনকার বলিউড তারকা রণবীর কাপুর। বৃহস্পতিবার সকালে অমিতাভ বচ্চনের টুইটে মানুষ প্রথম জানতে পারে যে ঋষি কাপুর আর নেই। টুইটে অমিতাভ লেখেন, আমি ধংস হয়ে গেলাম। ঋষি চলে গেলেন। এরপর ঋষির দাদা রণধীর কাপুর একটি বিবৃতিতে সকাল নটা আটত্রিশ মিনিটে ঋষির মৃত্যুসংবাদ জানান। ঋষির মৃত্যুতে বলিউড শুধু নয়, গোটা দেশেই শোকের ছায়া নেমে আসে। বলিউডের বিভিন্ন তারকা গভীর শোক প্রকাশ করেন তাঁর মৃত্যুতে। ঋষির মৃত্যুর সময় স্ত্রী নিতু, ছেলে রণবীর এবং মেয়ে ঋদ্ধিমা তাঁর পাশেই ছিলেন। পাঁচ দশকের বেশি সময় ঋষি জড়িয়ে ছিলেন সিনেমা শিল্পের সঙ্গে। শিশুশিল্পী হিসেবে হোম প্রোডাকশনের ছবির গান পেয়ার হুয়া একরার হুয়ার সঙ্গে তাঁর অভিনয় মানুষকে আবিষ্ট করেছিল। ঋষি তাঁর পাঁচ দশকের অভিনয় জীবনে বহু ছবিতে অভিনয় করেছেন। কিন্তু যদি তিনি তা নাও করতেন মানুষ তাঁকে মনে রাখতো হয়তো দুটি ছবির অভিনয়ের জন্যে, ববি এবং মেরা নাম জোকার। দুটি ছবির নির্মাতা ছিলেন রাজ কাপুর। কিশোর ভীরু প্রেমের অভিব্যক্তি ঋষি ফুটিয়ে তুলেছিলেন তাঁর অভিনয়ের মাধ্যমে। মেরা নাম জোকার ছবিতে ঋষি ফুটিয়ে তুলেছিলেন এক জীবনবোধ , এক জীবনদর্শনকে। সাত এবং আটের দশকে বড় হওয়া কিশোররা কেউ তাঁর প্রভাবমুক্ত হতে পারেনি।

ছবি ও তথ্য: ইন্টারনেট