চলচ্চিত্র পরিচালনার ৭টি ধাপ

পিটার ডি মার্শাল একজন চলচ্চিত্র পরিচালক ও চলচ্চিত্র পরিচালনা বিষয়ের প্রশিক্ষক। ১৯৫১ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি কানাডার ভ্যাঙ্কুভারের অধিবাসী। “Making the Magic Happen: The Art and Craft of Film Directing” নামের বইয়ের লেখক। এই লেখাটি The 7-Step of Film Directing Formula নামের একটি প্রবন্ধের অনুবাদ।

“চলচ্চিত্র নির্মাণের কোনও নিয়ম নেই। আছে  কেবল পাপ! এবং প্রধান পাপ হল গল্পের নিরসতা।”- ফ্র্যাঙ্ক ক্যাপ্রা

একজন চলচ্চিত্র নির্মাতা হিসাবে আমি ৪০ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলচ্চিত্র এবং টেলিভিশন ব্যবসায়ে পেশাদার কাজ করে আসছি, প্রধানত পরিচালক এবং প্রধান সহকারী পরিচালক হিসাবে।

এই সময়ের মধ্যে আমি বিভিন্ন প্রোডাকশনে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। যেমন – বাণিজ্যিক চলচ্চিত্র, শিক্ষামূলক চলচ্চিত্র, প্রামাণ্যচিত্র, বিজ্ঞাপন, শর্ট ভিডিও, শর্ট ফিল্ম, এপিসোডিক টিভি শো, টিভি চলচ্চিত্র, টিভি পাইলট, স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র এবং হলিউডের চলচ্চিত্র ইত্যাদি।

আমি কয়েক ডজন ভালো পরিচালক এবং সাধারণ মানের পরিচালকের সঙ্গে কাজ করেছি। পাশাপাশি শতাধিক ভাল অভিনেতা এবং খুব ভাল নয় এমন অভিনেতাদের সঙ্গেও কাজ করেছি।

আমি চলচ্চিত্রের শতাধিক চিত্রনাট্য পড়েছি: এর মধ্যে অনেকগুলো এত বেশি ভয়াবহ যে আমি প্রথম ১০ পৃষ্ঠার বেশি পড়ার আগ্রহ পাইনি। আবার এমন চিত্রনাট্যও পড়েছি যার প্রথম পাতা থেকেই আমাকে গল্পে আটকে ফেলেছে। এছাড়া একাডেমি পুরস্কার জেতা চিত্রনাট্যও পড়েছি। ভ্যানকুভার ফিল্ম স্কুলের চলচ্চিত্র পরিচালনা বিষয়ের একজন প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেছি ৬ বছর। সেখানে আমি কয়েক শ চলচ্চিত্রের ছাত্রকে তাদের নিজস্ব শর্ট ফিল্ম লেখার, প্রস্তুতি নেওয়ার ও শুটিং শেখানোর পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।

চলচ্চিত্র পরিচালনার কোচ হিসাবে আমি বিশ্বব্যাপী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের পরামর্শদানের জন্য অগণিত ঘন্টা ব্যয় করেছি। তাদেরকে দেখিয়েছি চিত্রনাট্য বিশ্লেষণ করার সঠিক কৌশল যার মাধ্যমে তারা সেটে অভিনেতাদের সাথে কাজ করতে শিখেছে।

আমি বিশ্বাস করি যে, অনেক বছর চলচ্চিত্র নির্মাণ প্রক্রিয়ার মধ্যে সময় কাটানোর ফলে আমার ভেতরে একটা অনন্য অন্তর্দৃষ্টি তৈরি হয়েছে যার মাধ্যমে আমি নিচের প্রশ্নটার উত্তর দিতে সক্ষম। প্রশ্নটা হল– এমন কোন সূত্র, গাইড বা চেক লিস্ট আছে যা সারা দুনিয়ার চলচ্চিত্র পরিচালকদের সফল চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে সহায়তা করতে পারে?

আমার মতে, ভালো নাটকীয় চলচ্চিত্রের (বা তথ্যচিত্রের) সংজ্ঞাটি হল “বিশ্বাসযোগ্য চরিত্রগুলির সাথে আকর্ষণীয়ভাবে ভিজুয়ালি বলা একটা গল্প যা দর্শকদের আবেগে আপ্লুত করে।”

আমরা সকলেই জানি যে, আমাদের ব্যবসায় সফল হওয়ার ১০০%  গ্যারান্টি নেই। তবে আমি বিশ্বাস করি যে,আমি একটি মৌলিক “সূত্র” পেয়েছি যা কোনও চলচ্চিত্র পরিচালক তার “বিশ্বাসযোগ্য চরিত্রগুলোসহ সিনেমা তৈরি করতে” গাইড হিসাবে ব্যবহার করতে পারে।

আমার মতে, গল্পটা কী নিয়ে এবং চরিত্রগুলি আসলে কী চায় এগুলো বোঝার আগেই বেশিরভাগ অনভিজ্ঞ (বা অভিজ্ঞ তবে অলস) চলচ্চিত্র পরিচালক তাদের বেশিরভাগ সময় কীভাবে চলচ্চিত্রটিকে শ্যুট করতে হয় তা নির্ধারণ করার জন্য ব্যয় করে। তারা সুন্দর ভিজ্যুয়াল এফেক্টস, ক্রিয়েটিভ শটস এবং ক্যামেরা অ্যাঙ্গেল ইত্যাদি নিয়ে যতটা চিন্তা করে, গল্প এবং তার চরিত্রগুলোকে নিয়ে ততটা চিন্তা করে না। সুতরাং আমি সাহস করে প্রকাশ্যে জানাতে চাই যে, এটি চলচ্চিত্র পরিচালনার ভুল পদ্ধতি। 

কেন?

কারণ আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি যে, ‘দৃশ্যগতভাবে টান টান লোভনীয় গল্পের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র’ সফলভাবে সৃষ্টি করার জন্য আপনাকে চলচ্চিত্র পরিচালনার ৭টি ধাপ বুঝতে এবং অনুসরণ করতে হবে।

ধাপ -০১:  মানব আচরণের অধ্যয়ন

০১) মানুষের আচরণের অধ্যয়ন দ্বারা আমি কী বোঝাতে চাইছি?

“মানব প্রকৃতি সম্পর্কে আমাদের ধারণা হল যে, বংশানুক্রমিকভাবে মানুষ ভিন্ন ভিন্ন বৈশিষ্ট্যের অধিকারী হয়। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে আছে– তার চিন্তা করার পদ্ধতি, অনুভূতি এবং ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া করা– যা মানুষের সহজাত।  মানুষের আচরণ বা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া জীবনের বিভিন্ন কারণের উপর নির্ভর করে। যেমন: আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি, চরিত্রগত বৈশিষ্ট্য, সামাজিক রীতি এবং মূল বিশ্বাস (জীবন দর্শন তথা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক আদর্শ) আমাদের আচরণকে প্রভাবিত করে।

ক) প্রতিদিনের নানা পরিস্থিতির বিপরীতে আমরা নানা রকম আচরণ করে থাকি। এই আচরণগুলো নির্ভর করে আমাদের একান্ত দৃষ্টিভঙ্গির উপর। 

খ) মানুষের স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের কিছু আচরণ বংশানুক্রম দ্বারা প্রভাবিত হয় যা ব্যক্তি থেকে ব্যক্তিতে পৃথক হয়ে থাকে। এই ভিন্নতা থেকে প্রতিটি ব্যক্তির বিভিন্ন ক্রিয়া বা আচরণ তৈরি হয় যা তার নিজস্ব।

গ) মানুষের আচরণ সামাজিক রীতিনীতি দ্বারা অনেক বেশি প্রভাবিত হয়। সমাজ বা গোষ্ঠীর তৈরি করা বিভিন্ন  নিয়মকানুন যে পরিস্থিতি তৈরি করে তার ভিত্তিতে মানুষের আচরণ প্রকাশিত হয়। 

ঘ) প্রতিটি ব্যক্তির মূল বিশ্বাস (ধর্ম ও দর্শন) দ্বারাও মানুষের আচরণ প্রভাবিত হয় যার ফলস্বরূপ বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন রকম আচরণ প্রকাশিত হয়।

০২) লেখক, পরিচালক এবং অভিনেতা হিসাবে আমরা সকলেই শিল্পী। শিল্পী হিসাবে আমাদের অবশ্যই মানব চরিত্রের আমাদের নিজেদের সংস্করণটি পর্যবেক্ষণ করতে হবে। শিল্পী হিসাবে আমাদের অবশ্যই মানুষের আবেগ এবং অনুভূতিগুলি বুঝতে হবে।

তাই আমাদের জানতে হবে এই প্রশ্নগুলোর উত্তর :

  • আমাদের কী অনুরণন তোলে?
  • আমরা নির্দিষ্ট কিছু কাজ কেন করি?

একবার আপনি এই প্রশ্নের উত্তরগুলি জানতে পারলে আপনার চিত্রনাট্যের চরিত্রগুলি একে অপরের সাথে কীভাবে ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া করবে সে সম্পর্কে আরও ভাল ধারণা পাবেন। এর পাশাপাশি শুটিং চলাকালে সেটে অভিনেতাদের ‘মনস্তাত্ত্বিক উপাদানগুলো’ দিতে পারবেন যা অভিনেতা অনুপ্রেরণা হিসেবে ব্যবহার করতে পারবে।

আমাদের সুবিধা হল, মানুষের আচরণ পর্যবেক্ষণযোগ্য। গল্পকার ও পরিচালক হিসাবে বিভিন্ন পরিস্থিতি ও পরিবেশে মানুষের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়াগুলো পর্যবেক্ষণ করতে হবে। তাতে করে আপনি বুঝবেন ‘কেন এবং কিভাবে’ মানুষের আচরণ বদলায়। 

একজন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে আপনাকে অবশ্যই মানুষের আচরণের খুব ভালো পর্যবেক্ষক হতে হবে।

মানুষের প্রতিদিনের জীবনযাত্রা পর্যবেক্ষণ করে বের করতে হবে কোন অনুপ্রেরণাগুলো তাদেরকে বিভিন্ন আচরণ করিয়ে নেয়। একবার আপনি যদি জানেন যে কোন অনুপ্রেরণাটি কোন ব্যক্তিকে তার নিত্য প্রয়োজনীয় চাহিদা অর্জনে কীভাবে অনুপ্রাণিত করে, আপনি যে গল্পটি বলছেন তা আরও ভালভাবে বুঝতে পারবেন। আপনি অভিনেতাদের বিশ্বাসযোগ্য পারফরম্যান্স অর্জনে সহায়তা করার ক্ষেত্রে আরও আত্মবিশ্বাসী হবেন।

ধাপ -০২: গল্প

০১) ক্লাসিক থ্রি অ্যাক্ট স্ট্রাকচার :

আমেরিকান পৌরাণিক কাহিনীবিদ ও লেখক জোসেফ ক্যাম্পবেল বিশ্বজুড়ে গল্পগুলিতে পাওয়া একটি মৌলিক, সার্বজনীন প্যাটার্নকে বোঝাতে “দ্য হিরোস জার্নি” শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

একজন নায়ক কোন এক সাধারণ দিনে একটি অতিপ্রাকৃত অলৌকিক বিস্ময় জগতের মুখোমুখি হয়। প্রতিদ্বন্দ্বী বিপুল শক্তির বিরুদ্ধে নায়ক সংগ্রাম করে জয়লাভ করে। নায়ক তার রহস্যময় রোমাঞ্চ থেকে ফিরে এসে তার বন্ধুদের তার এই অদ্ভুত অভিজ্ঞতা শোনায়। 

ক্যাম্পবেলের “নায়কের যাত্রা” মডেলটি আধুনিক গল্প বলার ক্ষেত্রেও ব্যবহৃত হয় এবং একটি কাল্পনিক আখ্যানকে একটি ৩ অঙ্ক কাঠামোর মধ্যে বিভক্ত করে। যেমন: ০১) সেটআপ; ০২) সংঘাত; ০৩) পরিণতি

অঙ্ক – ০১ (সেট আপ)

উদাহরণ: “ছেলে মেয়ের সাথে দেখা করে”

০১) গল্পের প্লট এবং গল্পের থিমটি কী?

০২) “নাটকীয় প্রশ্ন” এর উত্তর কী?

০৩) প্রধান চরিত্র কে এবং তাদের প্রয়োজন এবং লক্ষ্যগুলি কী?

অঙ্ক – ০২  (সংঘাত)

উদাহরণ: “ছেলে মেয়েকে হারায় এবং তাকে ফিরে পেতে অসম্ভব প্রতিকূলতার বিরুদ্ধে লড়াই করে”

০১) নাটকীয় “উত্থান” ক্রিয়া কী?

০২) প্রধান চরিত্রের পথের বাধাগুলি কী কী?

০৩) কীভাবে মূল চরিত্র প্রতিটি বাধা অতিক্রম করে?

অঙ্ক – ০৩ (পরিণতি)

উদাহরণ: “ছেলে মেয়েটিকে পায় এবং তারা সুখে শান্তিতে বসবাস করতে থাকে।”

০১) গল্পটি কীভাবে শেষ হয়?

০২) মূল চরিত্রের জীবনে কী ঘটে?

০৩) নাটকীয় প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে কি ?’

গল্পটি বোঝার জন্য আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। আপনাকে গল্পটির আরও গভীর খনন করতে হবে। প্রতিটি দৃশ্যের বিশ্লেষণ করে গল্পটার কাঠামোটা খুঁজে বের করতে হবে। খেয়াল করতে হবে গল্পটি কী সম্পর্কে। বুঝে ফেলতে হবে, কোন দৃশ্যটি কাজে লাগছে এবং কোন দৃশ্যটি কাজে লাগছে না।

০২) পরিচালক এবং গল্প

যে কোনও চলচ্চিত্র বা টিভি শোতে একজন পরিচালকের প্রস্তুতির অনেকগুলি দিক রয়েছে। তবে আপনার কাজের প্রথম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হল গল্পটি সম্পর্কে ব্যাপক বোঝাপড়া: এটি কোথায় ঘটে; চরিত্রগুলি কারা; এবং তাদের মধ্যে কী কী ঘটনা ঘটে।

আপনি যখন প্রথম কোনও চিত্রনাট্য পড়বেন, সম্ভাব্য সমস্যাগুলি সনাক্ত এবং সমাধান করতে সহায়তা করার জন্য আপনাকে অনেকগুলি প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে: যেমন

  • গল্প কী সম্পর্কে ?
  • গল্পটি আসলে কী বোঝাচ্ছে?
  • কোন সমস্যার সমাধান করতে হবে?
  • কোন ঘটনাটি দর্শককে গল্পের মধ্যে গেঁথে ফেলবে ?
  • প্লট কী ? (একশন)
  • সাবপ্লট কী? (থিম)

গল্পটি বোঝার জন্য আপনাকে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে। আপনাকে গল্পটির আরও গভীর খনন করতে হবে। প্রতিটি দৃশ্যের বিশ্লেষণ করে গল্পটার কাঠামোটা খুঁজে বের করতে হবে। খেয়াল করতে হবে গল্পটি কী সম্পর্কে। বুঝে ফেলতে হবে, কোন দৃশ্যটি কাজে লাগছে এবং কোন দৃশ্যটি কাজে লাগছে না।

নিচের এই প্রশ্নগুলোর উত্তর দেয়ার মাধ্যমে আপনি এই কাজটা করবেন :

  • এই দৃশ্যটির উদ্দেশ্য কী?
  • গল্পের প্লট পয়েন্টগুলো কোথায় ?
  • দৃশ্যের বিটগুলো কোথায় ?
  • ক্লাইম্যাক্সটি কোথায়?
  • পরিণতি কী?
  • সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ লাইনগুলি কী কী?

মনে রাখবেন, আপনার চিত্রনাট্য বিশ্লেষণ করার এই প্রক্রিয়াটি কখনও শেষ হবে না, চলতেই থাকবে। প্রতিবার চিত্রনাট্যটি পড়লে গল্প বা চরিত্রগুলি সম্পর্কে আপনি এমন কিছু খুঁজে পাবেন যা আগে জানতেন না।

আপনার  সৃজনশীল নোট, লেখকের পরিবর্তন, অভিনেতা পরিবর্তন, প্রযোজক পরিবর্তন, স্টুডিও পরিবর্তন এবং লোকেশনের প্রাপ্যতা সাপেক্ষে চিত্রনাট্যটি অবিচ্ছিন্নভাবে বিকশিত হতে থাকবে। যেহেতু ইতিমধ্যে আপনি জানেন যে গল্পটি কী নিয়ে এবং গল্পটির গন্তব্য কোথায় ফলে আপনি সমস্ত পরিবর্তনগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করতে সক্ষম হবেন।

ধাপ -০৩ : অভিনয়

০১) আমি মনে করি, অভিনেতাদের পরিচালনা করা সম্পর্কে প্রায় সব কিছু মাত্র তিনটি শব্দ দ্বারা ব্যাখ্যা করা যায়। সেগুলো হল – উদ্দেশ্য, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং আচরণ।

যখন আমরা এই শব্দগুলি ভেঙে ফেলি, আমরা দেখতে পাই:

  • উদ্দেশ্য (আমাদের মনের ভেতরে থাকা জগৎ)
  • সিদ্ধান্ত গ্রহণ (নিয়ন্ত্রণ)
  • আচরণ (আমাদের বাইরের বিশ্ব)

এবং যদি আমরা এগুলি আরও ভেঙে ফেলি তবে আমরা দেখতে পাচ্ছি:

  • আমাদের প্রয়োজনীয়তাগুলি কী (উদ্দেশ্য)
  • সিদ্ধান্ত নেবে (নির্ধারণ)
  • আমাদের চাহিদা পূরণের জন্য আমরা কী পদক্ষেপ নিই (আচরণ)

এবং যদি আমরা এটি পাঠ্য এবং সাবটেক্সটে বিভক্ত করি:

  • মোটিভ (চরিত্রের সাবটেক্সট)
  • বিশদগুলি (কোনও অভিনেতা কীভাবে অভিনয় করবেন তা সিদ্ধান্ত নেবেন)
  • আচরণ (স্ক্রিপ্ট পাঠ্য)

০২) একজন পরিচালকের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব হ’ল অভিনেতাদের বাস্তবসম্মত অভিনয় করতে সহায়তা করা। একজন ভালো পরিচালক নিজেকে নিচের প্রশ্নগুলো করে সত্যটা বোঝার চেষ্টা করেন:

  • আমি কি তাদের বিশ্বাস করি?
  • কথা গুলো কি অর্থ তৈরি করে?
  • চরিত্রগুলি কি বিশ্বাসযোগ্য?

এবং একজন অভিনেতার কাছ থেকে বাস্তব অভিনয় বের করে আনার মূল চাবিকাঠিটি হ’ল প্রথমে চরিত্রের উদ্দেশ্যগুলি বোঝা– চরিত্রটি এই নির্দিষ্ট দৃশ্যে কী করতে  চায়।

কীভাবে উদ্দেশ্যগুলি খুঁজে বের করবেন:

  • নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন “এই পরিস্থিতিতে চরিত্রটি কী চায়?”
  • একটি চরিত্রের উদ্দেশ্য অর্জনের পথে অবশ্যই বাধা বিঘ্ন থাকবে।
  • চরিত্রটি যা বলে তার চেয়ে সে কী করে (তার আচরণ) তা দেখুন। কী বলে সেটা মূখ্য নয়, কী করে সেটা মূখ্য।
  • দৃশ্যে কী ঘটে এবং কীভাবে শেষ হয় তা দেখুন।

০৩) শুটিং সেটে যে পরিচালকরা তাদের দুর্বলতা বোঝেন, তাদের সঙ্গে অভিনেতারা কাজ করতে চান। তাই আপনার চলচ্চিত্রের প্রতিটি অভিনেতার সাথে একটি ভাল সম্পর্ক তৈরি করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

আর এই সম্পর্কের মাধ্যমে অভিনেতারা পরিচালকের কাছে কী চান? আস্থা। তারা এই আস্থা অর্জন করতে চান যে, পরিচালক অভিনয় বোঝেন এবং অভিনেতাকে চরিত্রটি অনুযায়ী অভিনয় করাতে সক্ষম।

যদি অভিনেতা ও পরিচালকের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক তৈরি না হয়, তখন অভিনেতারা পরিচালককে আর বিশ্বাস করতে পারেন না। তখন তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে শুরু করেন এবং এক সময় নিজেই পরিচালক হয়ে ওঠেন। তখন তারা পরিচালকের আর কোন ধারণাই গ্রহণ করেন না। বরং নিজের মতো করে অভিনয় করতে শুরু করেন।

মনে রাখবেন,চরিত্রটিকে ধারণ করতে অভিনেতাকে অনুভূতি এবং আবেগের কাছে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণ করতে হয়।একজন ভালো পরিচালক একজন অভিনেতার দুর্বলতা বোঝেন এবং তাদের অভিনয় করার জন্য একটি নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরি করেন।

ধাপ -০৪ : মন্তাজের মূলনীতি

চলচ্চিত্র নির্মাণের কাজগুলোর মধ্যে চলচ্চিত্র সম্পাদনা হল একটি অনন্য কাজ। এটি চলচ্চিত্র নির্মাণকে অন্য সমস্ত শিল্প আঙ্গিক (যেমন ফটোগ্রাফি, থিয়েটার, নাচ এবং লেখা) থেকে পৃথক করে।

মন্তাজের মূলনীতিগুলো বুঝতে পারাটা একজন ভালো চলচ্চিত্র পরিচালকের অন্যতম গুণ। মন্তাজ হচ্ছে চলচ্চিত্র সম্পাদনার একটা কৌশল যেখানে পাশাপাশি শটগুলো বসিয়ে একটা ভিন্নতর নতুন অর্থ বানিয়ে গল্প বলা হয়।

১৯১৮ সালে লেভ কুলেশভ নামে একজন রাশিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা একটি পরীক্ষা চালিয়েছিলেন। তিনি একটি শর্ট ফিল্মের শুটিং ও সম্পাদনা করেছিলেন যাতে একজন  বিখ্যাত রাশিয়ান অভিনেতার মুখের শটের আগে তিনটি শট যোগ করেন। প্রথমটি শটটি স্যুপের একটি বাটি; দ্বিতীয় শটটি একটি বাচ্চা মেয়ে বল খেলছে এবং তৃতীয় শটটি কফিনে শায়িত একজন বৃদ্ধ মহিলা।

অভিনেতার শটটি ভাবলেশহীন ছিল। উপরের তিনটি শটের পরে অভিনেতার মুখের শটটি যোগ করা হয়। একই মুখের শট পর পর তিন বার।

তারপর শটগুলো দর্শকদের দেখানো হয়। দর্শকরা বলেছিল যে, অভিনেতার মুখের তিনটি শটের অভিব্যক্তি ভিন্ন ছিল। যখন স্যুপের একটি বাটির পর তার মুখের শট যোগ করা হয়, তখন মনে হচ্ছিল লোকটি ক্ষুধার্ত। যখন বাচ্চার খেলার পর তার মুখের শটটি যোগ করা হয়, তখন মনে হয় লোকটি খুশি। আর কফিনে শায়িত বৃদ্ধ মহিলার শটের পর তার মুখের শট দেখলে মনে হয় লোকটি শোকগ্রস্ত। অথচ অভিনেতার মুখের শটটি প্রতিবার একই ছিল।

তাহলে এই পরীক্ষাটি আমাদের কী বলে?

মন্তাজের নীতিগুলি (কোনও গল্প বলার জন্য শটের পাশাপাশি বসানোর মাধ্যমে) সাবধানতার সাথে ব্যবহার করে চলচ্চিত্র পরিচালক একজন অভিনেতার অভিনয় হেরফের করে দর্শকদের মধ্যে আবেগ (হাসি, ভয়, কান্নাকাটি, শক ইত্যাদি) তৈরি করতে সক্ষম হন।

মন্তাজ কীভাবে ব্যবহার করবেন তা বোঝা প্রতিটি চলচ্চিত্র নির্মাতাদের জন্যও প্রয়োজনীয়। কারণ আপনি এখন যে দৃশ্যটি চিত্রায়িত করছেন কেবল সেটা নয়– বরং, এই দৃশ্যের আগে ও পরের দৃশ্যগুলি সম্পর্কেও আপনাকে ভাবতে হবে। অন্য কথায়, আপনাকে দৃশ্য থেকে দৃশ্যের মধ্যে রূপান্তর সম্পর্কে চিন্তা করতে হবে।

একজন চলচ্চিত্র পরিচালক হিসাবে মন্তাজের নীতিগুলি বুঝলে তার আলোকে নিচের বিষয়গুলো করতে পারবেন:  আরও দৃশ্যময় বা ভিজ্যুয়াল চিত্রনাট্য তৈরি করতে পারবেন; শুটিং চলাকালে ক্যামেরা বসানোর স্থান নির্বাচন করার সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন; আপনার দৃশ্য ব্লক করতে পারবেন; এবং অভিনেতাদের থেকে বিভিন্ন মাত্রার অভিনয় বের করে আনতে পারবেন ।

ধাপ – ০৫: ক্যামেরার মনোবিজ্ঞান

আমি “ক্যামেরার মনোবিজ্ঞান” বলতে শট এবং কোণগুলির দৃশ্যগত বা ভিজ্যুয়াল অর্থ বুঝি। অন্য কথায়, একটা নির্দিষ্ট স্থানে ক্যামেরা বসিয়ে ছবি তুলে আপনি দর্শককে দৃশ্যটি কী এবং চরিত্রগুলি কী অনুভব করছে তা বোঝাতে চান। শটগুলোর মাধ্যমে দর্শকের এই অনুভূতি বাড়াতে বা কমাতে চান।

একটি শট বা সংলাপ গল্পের মূল ধারণাটিকে প্রকাশ করায় খানিকটা অবদান রাখে। সুতরাং গৃহীত প্রতিটি শট যেন গল্পের মূল ধারণাটিকে আরও ভালোভাবে প্রকাশ করতে সক্ষম হয়।

প্রতিটি দৃশ্যের চূড়ান্ত লক্ষ্য হল দর্শককের আবেগ বৃদ্ধি করানো। দর্শককে আবেগগতভাবে সিনেমার গল্পের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়া। আপনি প্রতিবার ক্যামেরা বসানোর সময় ভেবে নেন যে, এই শটে আপনি দর্শককে কোন আবেগ দিতে চান।

পরিচালক হিসেবে যখন শটগুলোর পরিকল্পনা করছেন, তখন প্রতিবার নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, আমি এই বিশেষ মুহূর্তে দর্শককে কোন অনুভূতিতে ভাসাতে চাই?

দর্শকের আবেগ বাড়ানোর জন্য ক্যামেরা ব্যবহারের ৬টি দিক রয়েছে যা সম্পর্কে পরিচালককে প্রতিনিয়ত সিদ্ধান্ত নিতে হয়। সেগুলো হল–

০১) লেন্স

লেন্স স্থানকে প্রসারিত বা সংকুচিত করে প্রকাশ করে। সুতরাং যখন আপনি লেন্স বাছাই করছেন, আপনি মূলত প্রসারিত বা সংকুচিত স্থান বেছে নিচ্ছেন। সুতরাং আপনার শটের জন্য কোনও লেন্স বেছে নেয়ার আগে নিজেকে জিজ্ঞাসা করুন: “আমি চরিত্রটির সাথে কতটা ঘনিষ্ঠ হতে চাই? এবং আমি কীভাবে দর্শনীয়ভাবে এটি উপস্থাপন করব? “

০২) গভীরতা

গভীরতার মায়া ভিজ্যুয়াল গল্প বলার একটি অঙ্গ। সিনেমা হলের পর্দা মূলত ২ মাত্রিক (প্রস্থ ও উচ্চতা) গভীরতা যোগ করলে সেটায় তিন মাত্রিক মায়া তৈরি হত। এই দুই মাত্রিক পর্দায় গভীরতার এই মায়া পেতে এমনভাবে দৃশ্যটাকে ব্লকিং করেন বা সাজান যাতে করে স্থানের তিনটি স্তর বোঝা যায়। ফোরগ্রাউন্ড, মিড গ্রাউন্ড এবং ব্যাক গ্রাউন্ড– এই তিনটি স্তরকে ব্যবহার করে দৃশ্যটিতে ত্রিমাত্রিক মায়া তৈরি করুন।

০৩) ফোকাস

ভিজুয়াল গল্প বলার সময় একজন পরিচালকের প্রধান কাজ দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করা। মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য ফোকাস একটা টুল। যেখানে শটটিকে ফোকাসে রাখা হয় দর্শকের মনোযোগ সেখানে যায় এবং ফ্রেমের মধ্যে সেটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। 

০৪) কোণ

একটি চরিত্রের আইলাইন থেকে দূরত্ব দর্শকদের সাথে চরিত্রের সনাক্তকরণকে প্রভাবিত করে। উদাহরণস্বরূপ: ক্যামেরার জন্য এখানে তিনটি কোণ রয়েছে যার মাধ্যমে ক্যামেরাকে তিনভাবে ব্যবহার করা যায়। যেমন:

  • নৈর্ব্যক্তিক (objective) : দর্শকের দৃষ্টিভঙ্গি। ( একশনের বাইরে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে))
  • বিষয়গত (subjective): ক্যামেরাটি দর্শকের চোখ হিসাবে কাজ করে। (একশনের  ভিতরে ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে)
  • দৃষ্টিকোণ (point of view): চরিত্রটি কী দেখছে। (ক্যামেরা নিজেই একশন)

০৫) ফ্রেম

যেহেতু কম্পোজিশন নিজেই আবেগ প্রকাশ করে। আবেগ ও কম্পোজিশনের অর্থটা চিত্রনাট্য বিশ্লেষণ করে পরিচালক তৈরি করেন। অন্য কথায়, শটটি ফ্রেমিংয়ের আগে, তাকে জানতে হবে “শটটি কী?”

০৬) গতি

গতি স্ক্রিন ডিরেকশনের ক্ষেত্রে প্রয়োগ হতে পারে। ফ্রেমের একদিক থেকে আরেক দিকে চরিত্রগুলোর চলাচল একটা গতি তৈরি করে।

অন্যদিকে ক্যামেরা মুভমেন্টও এক রকম গতি। ক্যামেরা মুভমেন্টের সময় নিজেকে জিজ্ঞেস করুন, কেন ক্যামেরা মুভ করছে? এটা কি একশনকে অনুসরণ করছে? নাকি নতুন কোন তথ্য প্রকাশ করছে? নাকি কম্পোজিশনটাকে একটু বদলে দিচ্ছে?

ধাপ -০৬: বেসিক ব্লকিং এবং স্ট্যাজিং কৌশল

“ফ্রেমে কী আছে  এবং তার বাইরে কী আছে সেটা নিয়েই সিনেমা ” :  মার্টিন স্করসেজি

ব্লকিং হল অভিনেতাদের সাথে ক্যামেরার সম্পর্ক। মূলত অভিনেতাদের চলাচলের সঙ্গে ক্যামেরা মুভমেন্ট বা অবস্থানের সঙ্গে সম্পর্কিত। 

যাইহোক, যখন কোনও পরিচালক কোনও চলচ্চিত্রের দৃশ্যটি ব্লকিং করার পরিকল্পনা শুরু করেন, তখন তিনি কেবল তার শট এবং ক্যামেরার অবস্থান নিয়েই ভাবছেন না, তিনি লাইটিং, জানালার অবস্থান, যানবাহন চলাচল, অন্যান্য অভিনেতা ইত্যাদির মতো উপাদানগুলো নিয়েও ভাবছেন। তার সঙ্গে অবশ্যই তাকে সময় ও বাজেটের কথাও ভাবতে হয়।

কারণ প্রতিটি দৃশ্যের মূল লক্ষ্য হচ্ছে দর্শকদের আবেগ তৈরি করা। প্রতি মুহূর্তে দর্শকদের কী আবেগ অনুভূত করাতে চান, তা ভেবেই পরিচালক ক্যামেরাটি নির্দিষ্ট স্থানে স্থাপন করেন। এক্ষেত্রে নিচের বিষয়গুলোও বিবেচনা করা হয়–

  • দৃশ্যে কী সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ;
  • দৃশ্যটি কী সম্পর্কে (দৃশ্যের উদ্দেশ্য);
  • চরিত্রগুলি কী চায় (চরিত্রের উদ্দেশ্য)

পরিচালক হিসাবে আপনার অন্যতম দায়িত্ব হচ্ছে চরিত্রের চিন্তা ও আবেগ তাদের কাজের মধ্য দিয়ে প্রকাশ করা।সংলাপের চেয়ে কাজ বা একশনের মাধ্যমে চরিত্রের আবেগ অনুভূতি ভালোভাবে প্রকাশ করা যায়। (বাস্তব জীবনের কথা ভাবুন) অভিনেতার প্রতিটি চলাফেরার অবশ্যই একটি সুনির্দিষ্ট উদ্দেশ্য এবং লক্ষ্য থাকতে হবে। একজন পরিচালককে অবশ্যই এটি নিশ্চিত করতে হবে যে অভিনেতাদের করা প্রতিটি একশন একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য প্রকাশ করবে। 

ব্লকিংএর মাধ্যমে দর্শক বুঝতে পারবে, দৃশ্যটি আসলে কী বিষয়ে এবং চরিত্রগুলো কী অনুভব করছে।

সুতরাং যখন অভিনেতা এবং ক্যামেরার জন্য ব্লকিং নির্ধারণ করবেন, তখন অবশ্যই আবেগ সৃষ্টির কথাটা মাথায় রাখবেন এবং কোন ব্লকিংই উদ্দেশ্যহীন হবে না।

নিচের প্রশ্নগুলো ভাবলে বিষয়টা পরিষ্কার হবে :

  • অভিনেতা কেন চলাফেরা করছে ?
  • অভিনেতা কোথায় থেকে কোথায় যাবে ?
  • কখন অভিনেতা চলাফেরা শুরু করবেন ?
  • কিভাবে অভিনেতা চলাফেরা করবেন ?

প্রতিটি শট এবং সংলাপ চলচ্চিত্রের মূল গল্প বা ধারণাটিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়। আপনি যে গল্প বলছেন চলচ্চিত্রটির প্রতিটি শট যেন সেই গল্পকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়।

একটা দৃশ্যের ব্লকিং করার কোন ধরাবাঁধা নিয়ম নাই। ব্লকিং অনেকটা ধাঁধার মতো। পুরো দৃশ্যটি জায়গামতো না আসা পর্যন্ত কাজ চালিয়ে যেতে হয়।

ধাপ -০৭: সিনেম্যাটিকস

সিনেমাটিক্স শব্দটিকে অভিধানে ‘চলচ্চিত্র বানানোর কৌশল বা নীতি’ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। এই প্রবন্ধে আমি সিনেমাটিক্সকে সংজ্ঞায়িত করছি এভাবে– ‘একটা সিনেমা বানাতে যা কিছু লাগে’। (লোকেশন, শব্দ, চিত্রগ্রহণ, সেট ড্রেসিং, প্রপস, ভিজুয়াল এফেক্টস, পোশাক, স্টান্ট ইত্যাদি মিলে সিনেম্যাটিকস)

হ্যাঁ, আমি জানি যে, চলচ্চিত্র নির্মাণের বেশির ভাগ প্রক্রিয়াটিকে এই ধাপে রেখেছি। যদি প্রথম ৬টি ধাপ না বুঝে থাকেন, তবে আপনি সাধারণ মানের চলচ্চিত্র পরিচালক হবেন, লিখবেন বিশ্বাসযোগ্য নয় এমন চরিত্রসহ কল্পনাহীন চিত্রনাট্য যা দিয়ে নির্মিত চলচ্চিত্রের গল্প অনুমানযোগ্য হবে। দর্শক আগে থেকেই ধরে ফেলতে পারবে গল্পের পরবর্তী ঘটনা কী ঘটবে। একটি চলচ্চিত্রের এটা সবচেয়ে বড় দোষ।

একজন ভালো চলচ্চিত্র পরিচালক হতে হলে আপনাকে জানতে হলে প্রি প্রোডাকশন কখন শুরু করতে হয়, কখন শুটিং শুরু করতে হবে এবং কখন সম্পাদনা করতে হবে। সফলভাবে এই কাজগুলো করতে হলে–

০১) নিজের প্রতি সম্পূর্ণ আস্থা রাখুন। আপনার প্রতিভা এবং দক্ষতার প্রতি বিশ্বাস রাখুন

০২) “যাই হোক না কেন” এটিকে ধরে রাখার মতো সাহস এবং দৃঢ়তা অর্জন করুন

০৩) যা সম্ভব নয় তার চেয়ে কী সম্ভব তা নিয়ে অবিরাম মনোনিবেশ করুন

০৪) আপনার অনন্য কণ্ঠ, শৈলী এবং অভিব্যক্তি অনুসন্ধান কখনও বন্ধ করবেন না

০৫) নিজের প্রতি সৎ থাকুন: এটি আপনাকে সঠিক লোক বেছে নেয়া এবং সঠিক সিদ্ধান্তের দিকে পরিচালিত করবে।

বিগত ৪০ বছরে আমি যা প্রত্যক্ষ করেছি তার থেকে আমি বিশ্বাস করি যে, আপনি যদি এই ৭টি ধাপের চলচ্চিত্র পরিচালনার সূত্রটি অনুসরণ করেন, তবে খুব কম অভিজ্ঞতাসম্পন্ন যে কোনও পরিচালকও ভিজুয়ালি আকর্ষণীয় বা লোভনীয় চলচ্চিত্র বানাতে পারবে যার মধ্যে বিশ্বাসযোগ্য চরিত্র আছে।

আমাদের মনে রাখতে হবে যে চলচ্চিত্র নির্মাণ একটি সার্বজনীন ভাষা এবং আমরা বিশ্বের যেখানেই বাস করি না কেন আমাদের প্রত্যেকের বলার মতো নিজস্ব গল্প আছে।  

সুতরাং আপনার যদি কোন সার্বজনীন থিমের আকর্ষণীয় গল্প থাকে, আপনার নিজের ভাষায় গল্পটি বলতে সক্ষম হবেন এবং বিশ্ব জুড়ে দর্শকরা এটা দেখবে।

এবার সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব আপনার।

অনুবাদক:

শাহজাহান শামীম

চিত্রনাট্যকার ও পরিচালক | ডিপ্লোমা ইন ফিল্মমেকিং, বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউট